রবিবার ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, “মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে এবং ব্রিজ ডে—ইরানে এর আগে এমন কিছু দেখা যায়নি।” পাশাপাশি তিনি মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র-সহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে।
advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের অবকাঠামোর ওপর কোনও হামলাকে দেশের মানুষের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হবে এবং তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ইরানের দূত আলি মৌসাভি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী “শত্রু ছাড়া সকলের জন্য খোলা”, এবং মার্কিন আক্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
ডেডলাইন ও উত্তেজনার টাইমলাইন:
- ২১ মার্চ: ট্রাম্প প্রথম হুঁশিয়ারি দেন—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।
- ২৩ মার্চ: আলোচনার অগ্রগতি দাবি করে ৫ দিন সময় বাড়ান ট্রাম্প, যদিও ইরান আলোচনা অস্বীকার করে।
- ২৬ মার্চ: শেয়ার বাজারে পতনের মধ্যে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়।
- ৩০ মার্চ: “বড় অগ্রগতি”র দাবি করলেও ট্রাম্প আবারও তেলক্ষেত্র ও খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি দেন।
- ১ এপ্রিল: ইরান যুদ্ধবিরতি চাইছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প, যা তেহরান “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেয়।
- ৪ এপ্রিল: নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে—নরক নেমে আসবে।”
এদিকে, এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব তেলের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে যেখানে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৫৭ ডলার, তা বেড়ে এখন ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে—প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই সংঘাত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
