advertisement
পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতা, সরবরাহ এবং ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করল ভারত সরকার। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে পণ্য পরিবহণের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল। সরবরাহ বন্ধ থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেরও। জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর চাহিদা মেটাতে ভারত আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে পশ্চিম এশিয়ার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে।
ইরান-মার্কিন যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল হরমুজ প্রণালী, যে বিষয়টি নিয়ে ইরান ইতিমধ্যেই আমেরিকাকে সতর্ক করে আসছিল। সংঘাত যত তীব্র হচ্ছে, আমেরিকার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইস্যুতে কেবল ২০ গুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করে ইরানে আক্রমণ করার হুমকিই দেননি, বরং চিনকেও এই সংঘাতে টেনে আনার চেষ্টা করছেন। এই উত্তেজনার কারণে পুরো অঞ্চলটি জ্যাম হয়ে পড়েছে, ভারত-সহ অনেক দেশের জাহাজ সেখানে আটকে পড়েছে।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের অধীনে, সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি খাতের জ্বালানি পরিশোধকদের নিশ্চিত করতে হবে, তাদের উৎপাদিত প্রোপেন এবং বিউটেন যাতে এলপিজি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতে ইতিমধ্যেই গ্যাসের সঙ্কট চলছে। বাণিজ্যিক গ্যাস না পেয়ে প্রবল চাপে পড়েছেন হোটেল-রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা। এলপিজির সঙ্কট আটকাতে আগেই গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন করেছিল কেন্দ্র। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয় রান্নার গ্যাসের দাম। সোমবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২৫ দিন আগে করা যাবে না দ্বিতীয় গ্যাসের বুকিং। মুম্বই হোটেল এবং রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রান্নার গ্যাসের জোগানের অভাবে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া গেলে মুম্বইয়ের ৫০ শতাংশ রেস্তরাঁই বন্ধ করে দিতে হবে। তবে সেই সংস্থা জানিয়েছে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন রেস্তরাঁ মালিকরাই, যে যেমন পরিস্থিতি বুঝছেন, তেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
