জুলাই আন্দোলনের সময় গঠিত সংস্কার প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত করা হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতেই এবারের গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল৷ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সিংহভাগ ভোটার মত দেওয়ায় এবার জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলি মেনে বাংলাদেশের সংবিধানে বদল আনার ক্ষেত্রে বাধা থাকল না৷
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪১২৯ জন ভোটার হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন৷ না ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন৷
advertisement
হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় কী বদল আসবে বাংলাদেশে?
হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার পথ খুলল৷
শাসক দল ছাড়াও বিরোধী দল এবং বিচারবিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটির হাতে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের দায়িত্ব থাকবে৷
বাংলাদেশের সংবিধানের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কার্যনির্বাহী সব ক্ষমতাই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছিল৷ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া প্রায় সমস্ত সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রপতিকে নিতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অথবা মতামত নিয়ে৷ জুলাই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর এই একচ্ছত্র ক্ষমতাই কমছে৷
এ ছাড়াও কোনও জুলাই প্রস্তাব গৃহীত হলে সংসদে কোনও বিষয়ে ভোটাভুটির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা আরও বাড়বে৷ এর পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় আরও বড় একটি পরিবর্তন আসবে৷ হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় বাংলাদেশের সংসদ এবার হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট৷ সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিও বদলাবে৷ এবার থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল চাইলেই সহজে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না৷
জুলাই সনদ কী?
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার৷ এর মধ্যে দেশের সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পুলিশের মতো বিভিন্ন বিভাগ এবং ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হয়৷ এই কমিশনগুলির দেওয়ার প্রায় ১৬৬টি সুপারিশকে বেছে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মতামত নেওয়া হয়৷ রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে ৮৪টি সুপারিশকে চূড়ান্ত করা হয়৷ এই ৮৪টি সংস্কার সুপারিশ নিয়েই তৈরি হয় জুলাই জাতীয় সনদ৷ এই জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতেই গণভোটের আয়োজন হয়েছিল৷
