ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট৷ তার আগেই প্রয়াত সে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি-র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ তাহলে বিএনপি-র তরফে কে হবে নির্বাচনের মুখ, কার ছবি ছাপা হবে ব্যানারে, ফেস্টুনে? বিএনপি সূত্রের খবর, এবার জিয়াপুত্র তারেক রহমানকেই চেয়ারপার্সন পদে দায়িত্ব দিতে চলেছে তাঁর দল৷ তবে কবে, কীভাবে সেই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, তা স্থির হয়নি এখনও৷
advertisement
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার বাংলাদেশের প্রথমসারির প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ‘‘নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ছাপানোর বিষয় আছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নিতে হবে, আমরা শিগগির কমিশনে যাব।’’
দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দলের ‘চেয়ারপারসন’ পদটি শূন্য হয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাসহ কৌশলগত কারণে বিষয়টি এখনই সামনে আনা হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছেন।
অশীতিপর বিএনপি নেত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক ছিল। রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে সিসিইউ-তে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালেই মৃত্য়ু হয় তাঁর। সংবাদ সংস্থা, প্রথম আলো সূত্রে খবর, বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে জানিয়েছেন, ‘আম্মা আর নেই।’
ওপার বাংলার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একটি পোস্টে লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের আমার সমবেদনা।”
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণ করেছেন প্রধআনমন্ত্রী। ওই বৈঠকের দু’টি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
