কিন্তু বারবার কেন দুবাইকেই নিশানা করছে ইরান? গত শনিবার দুবাইয়ের বিশ্ববিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার ফাইভ-স্টার ফেয়ারমন্ট হোটেলে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা হোটেলের গেটে আগুন জ্বলতে দেখেন এবং এই ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরই মধ্যে দুবাইয়ের বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। আকাশসীমা আংশিক চালু হলেও অনেকেই আটকে পড়েছেন। শহরের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
advertisement
বেকি উইলিয়ামস নামে সেখানকার একজন বাসিন্দা জানান, তিনি তার বাড়ির পেছন থেকে প্রায় ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপিত হতে দেখেছেন। তিনি জানান, এগুলো উৎক্ষেপণ করা হচ্ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য। দুবাইয়ের বিলাসবহুল কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ পাম জুমেরাহ এলাকায় পাঁচ তারকা ফেয়ারমন্ট দ্য পাম হোটেলে একটি বড় বিস্ফোরণ হয়েছে। আবার প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাঁচ তারকা বুর্জ আল আরব হোটেল-এর বাইরের অংশে পড়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে।
পাম জুমেইরাতে ইরানি মিসাইল হামলার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ইরানি হামলার আবহে বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়। বুর্জ খালিফা থেকে পাম জুমেইরার এই হোটেলের দূরত্ব খুব একটা বেশি নয়। এই হোটেলটি পশ্চিমা সেলিব্রিটিদের বেশ প্রিয় বলে দাবি করা হয়। এছাড়া যে পাম জুমেইরা দ্বীপে এই হোটেলটি অবস্থিত, সেখানে অনেক ভারতীয় সেলিব্রিটিদের আবাসস্থল রয়েছে। বলিউডের বড় বড় নাম থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের অনেকেই এই দ্বীপে ‘বিচফ্রন্ট ভিলা’ ও ‘হাই-এন্ড অ্যাপার্টমেন্ট’ কিনেছেন। উল্লেখ্য, খেজুর গাছ এবং পাতার আকারের এই দ্বীপটিকে ২০০১ এবং ২০০৬ সালের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
বলিউড অভিনেতা সলমন খানের ভাই সোহেল খানও পাম জুমাইরায় একটি বিলাসবহুল ভিলা কিনেছেন। শাহরুখ খানও এখানে জন্নত নামে একটি ভিলা কিনেছিলেন। ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি পাম জুমেইরায় চার বেডরুমের একটি ভিলা কিনেছেন। সেখানে তিনি তাঁর ছেলে এবং পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, দুবাইয়ের মতো সবচেয়ে নিরাপদ অ্যাখ্যা পাওয়া শহরে হামলা চালিয়ে আসলে ইরান গোটা বিশ্বে বার্তা দিতে চাইছে, তাদের উপর আঘাত হলে কেউ ছাড় পাবে না। সেই সঙ্গে বাকি আরব দেশগুলিকেই বার্তা দিচ্ছে ইরান, আমেরিকার পক্ষ নিয়ে এই ধ্বংসলীলায় যোগ দিলে, প্রত্যাঘাত তাদেরও পেতে হবে।
