উইকলি ব্লিটজ অনুযায়ী, এক সময় এটা ট্রাইব্যুনাল ন্যায়ের অনেক বড় প্রতীক ছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হওয়া গণহত্যা আর নির্যাতনের শাস্তি দেওয়ার জন্য ২০০৯ সালে এটা গঠন করা হয়েছিল। মানুষ এক দশক ধরে অপেক্ষা করছিল যে অবশেষে ন্যায়বিচার হবে। পাকিস্তান সেনা আর তার সহযোগী (রজাকার, আল-বদ্র, আল-শামস)-দের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর স্বপ্ন ছিল। শুরুতে ইউনাইটেড নেশনস আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এটা স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু ৫ অগাস্ট ২০২৪ সালে যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়, তখন সবকিছু বদলে যায়। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন আইন বদলে দেয় আর ট্রাইব্যুনালের পুরো কাজই উল্টে দেয়। এখন ১৯৭১ সালের পুরনো মামলাগুলো ঠান্ডা ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে, তার বদলে ট্রাইব্যুনাল মূলত শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকারের মন্ত্রী, অফিসার, পুলিশ আর সেনাবাহিনীর লোকদের বিরুদ্ধে মামলা চালাচ্ছে।
advertisement
রিপোর্টে ছাপা তথ্য অনুযায়ী, অনেক মানুষ স্পষ্ট বলছে যে ইউনূস ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা থেকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। হাসিনা সরকার ইউনুসের বিরুদ্ধে ট্যাক্স চুরি এবং অন্য গুরুতর অভিযোগ এনেছিল এবং তাঁকে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হতে দেয়নি। ইউনূস নিজেও লেবার ল’ ভাঙার মামলায় জেলেও গিয়েছেন।
বার্গম্যান প্রকাশ করেছিলেন যে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর স্যামুম রেজা তালুকদার আওয়ামী লিগ নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা (প্রায় ৮২,০০০ ডলার) ঘুষ চেয়েছিলেন। জামিন পাওয়ার বদলে এই টাকা চাওয়া হয়েছিল। ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং-এ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বড় অঙ্কের টাকা’ দরকার এবং ১০ লাখ টাকা ক্যাশে অগ্রিম চান। রিপোর্ট অনুযায়ী, দুইটি আলাদা মিডিয়া কল রেকর্ড এবং কণ্ঠস্বর মিলিয়ে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ভিকলি ব্লিটজ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এর সঙ্গেই প্রসিকিউটরদের মধ্যে খোলাখুলি ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। জানুয়ারি ২০২৬-এ চিফ প্রোসিকিউটর তজুল ইসলাম সুলতান মাহমুদকে সরানোর জন্য চিঠি লেখেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তজুল নিজেই সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনই মাহমুদ সোশ্যাল মিডিয়ায় তজুল এবং তার সাথীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, প্রসিকিউটর অফিস এখন “টাকা কামানোর কারখানা” হয়ে গিয়েছে। তজুল একে পুরোপুরি মিথ্যে বলে জানান।
