আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচন। আগস্ট ২০২৪-এ বিশাল ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর বরখাস্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অন্তর্বর্তী প্রধান মুহম্মদ ইউনুস। গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে; ব্যাপক বিক্ষোভ, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের খবর আসছে।
advertisement
সাধারণ ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, এবং ভোটগণনা শুরু হবে ৪টার পরই। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালেই সরকারিভাবে ফল ঘোষণা করবে।
আরও পড়ুনঃ প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ, উদিত নারায়ণের বিরুদ্ধে থানায় দ্বারস্থ প্রথম স্ত্রী!
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো
🔹 বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (BNP)
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারিক রহমান নেতৃত্বে পার্টি ২৮৮ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং সহযোগী ও স্বতন্ত্রদের সঙ্গে ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছে।
🔹 জামায়াতের ১১ দলীয় জোট
বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর নেতৃত্বে এই জোটে রয়েছে: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, নিজাম-ই-ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ইত্যাদি। তারা ২৯৮টি আসনে দৌড়াবে।
🔹 ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
২০০৮ সাল থেকে সাইয়েদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে এই দল ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দেবে।
🔹 জাতীয় ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (জাতীয় পার্টি-এয়ারশাদ নেতৃত্বে)
এই ফ্রন্ট ২০৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি (এয়ারশাদ) ১৯৫ আসন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিযোদ্ধা পার্টি ২০ আসন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১৭ আসন এবং জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ১০ আসন গ্রহণ করেছে।
🔹 ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট
এর সদস্য হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সোশ্যাল পার্টি, সোশ্যালিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। তারা ১৪৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
🔹 গ্রেটার সুন্নি অ্যালায়েন্স
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটে ২৬টি প্রার্থী রয়েছে এবং তারা ৬৪টি আসনে লড়াই করবে। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ও ইস্লামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ—প্রতি দল ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
জোট ও সংসদ গঠন প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের সংসদ জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। বাকী ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, যা পরে নির্বাচিত এমপিদের পার্টি অনুযায়ী পূরণ করা হয়।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন করে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করবে—যেখানে ভোটারদের কণ্ঠই হবে দেশের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
