ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে ইরানের একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকও নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার এবং ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব—যিনি খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা! জানেন, কে ছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই?
advertisement
“ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট মানুষ খামেনেই মৃত”! কী ভাবে খুন করা হল তাঁকে? গোটা ‘প্ল্যান’ বিশদে জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ইতিহাসের অন্যতম দুষ্ট মানুষ খামেনেই মৃত।” তাঁর দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম দফার হামলাতেই তেহরানে অবস্থিত সুরক্ষিত কমপাউন্ড লক্ষ্য করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে খামেনেইকে টার্গেট করা হয়। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
নিজের দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যাঁরা খামেনেই ও তাঁর ‘গোষ্ঠী’র হাতে নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্যও ন্যায় প্রতিষ্ঠা। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি), সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য আর লড়াই করতে চাইছেন না এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছে দায়মুক্তি চাইছেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “এখন দায়মুক্তি পাওয়া সম্ভব, পরে শুধু মৃত্যু।” একইসঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নির্ভুল ও ভারী বোমাবর্ষণ’ প্রয়োজন হলে অব্যাহত থাকবে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই দেখা দেয় তীব্র বিভ্রান্তি। খামেনেইয়ের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে পার্সি ভাষায় একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পোস্ট করা হয়—“নামি হায়দারের নামে (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।” কোনও প্রেক্ষিত বা প্রমাণ ছাড়াই করা এই পোস্ট ঘিরে জল্পনা শুরু হয়। এটি কি পূর্বনির্ধারিত ‘ডেড ম্যান’স সুইচ’, না কি খামেনেই জীবিত থাকার ইঙ্গিত—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। তাদের বক্তব্য, খামেনেই সুস্থ আছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিজেই পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় মাধ্যম আরও দাবি করে, গত ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে—এমন দাবিও ট্রাম্প করেছিলেন, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তাদের ভাষায়, “মিথ্যাচারই ট্রাম্পের ধারাবাহিক কৌশল। এই সংঘাতের চূড়ান্ত ফল হবে তাঁর রাজনৈতিক পরিণতি।”
খামেনেই নিহত কি না, তা নিয়ে বিপরীতমুখী দাবি-প্রতিদাবির জেরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল শুরুতে। পরে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও খামেনেইয়ের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।
