তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান থেকে আসা বিমানগুলির বিরুদ্ধে আফগান বাহিনী গুলি চালাচ্ছে। তিনি জানান, আকাশে অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে এবং বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “কাবুলে পাকিস্তানি বিমানের বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা অভিযান চলছে। নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।”
advertisement
গত কয়েক দিন ধরেই সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সীমান্ত বরাবর তারা পাল্টা অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি, এর আগে পাকিস্তানের বিমান হামলায় সাধারণ নাগরিক নিহত হন। পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল জঙ্গি ঘাঁটি।
শুক্রবার ইসলামাবাদ কাবুল ও কান্দাহার-সহ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বোমাবর্ষণের কথা স্বীকার করে। কান্দাহার আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতার আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। আফগান প্রশাসনের অভিযোগ, একাধিক হামলায় সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও এ বিষয়ে পাকিস্তান কোনও মন্তব্য করেনি।
কান্দাহারের গ্রামীণ এলাকায় নির্মাণকর্মীরা জানান, রবিবার দুটি বিমান হামলা তাদের কর্মস্থলে আঘাত হানে, যাতে তিন জনের মৃত্যু হয়। সাইট ম্যানেজারের দাবি অনুযায়ী, হতাহতদের মধ্যে শ্রমিকরাই ছিলেন। ২০ বছরের এনামুল্লাহ বলেন, “সব কিছু মুহূর্তে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। আমি শুধু রুটি-রুজির জন্য কাবুল থেকে এখানে এসেছিলাম।”
আফগান উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, বৃহস্পতিবার থেকে খোস্ত, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের হতাহতের দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
জালালাবাদে কাবুল–সীমান্ত সড়কে থাকা এএফপি-র এক সাংবাদিক শনিবার একটি যুদ্ধবিমান ও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তারা একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং পাইলটকে আটক করেছে। ইসলামাবাদ এই দাবি “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পাকতিকা প্রদেশে বাসিন্দারা টানা গোলাগুলির কথা জানিয়েছেন। খোস্তে সীমান্ত সংলগ্ন বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ৬৩ বছরের মহম্মদ রাসুল বলেন, “বোমাবর্ষণ শুরু হতেই শিশু, নারী—সবাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। কারও পায়ে জুতো ছিল না, কেউ ঠিকমতো পর্দাও করতে পারেনি।”
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী শনিবার জানান, অভিযান শুরুর পর থেকে আফগানিস্তানের ৩৭টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে আফগান প্রশাসনের দাবি, ৮০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং ২৭টি সামরিক চৌকি দখল করা হয়েছে। পাকিস্তান পাল্টা দাবি করেছে, প্রায় ৩০০ আফগান সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলির স্বাধীন যাচাই হয়নি।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনে তারা পাকিস্তানের ভূখণ্ডেও বিমান হামলা চালিয়েছে, যা পর্যবেক্ষকদের মতে ড্রোনের মাধ্যমে হতে পারে। শুক্রবার ইসলামাবাদ তালিবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে “উন্মুক্ত যুদ্ধ” ঘোষণা করে। অন্যদিকে কাবুল এই সঙ্কট মেটাতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
