জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থা Kpler-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওই তেলবাহী জাহাজটির নাম ‘পিং শান’। এটি একটি আফ্রাম্যাক্স শ্রেণির জাহাজ, যা ২০০২ সালে নির্মিত এবং ২০২৫ সালে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। প্রথমে জাহাজটি ভারতের পশ্চিম উপকূলে ভাদিনার বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু পরে সেটি দক্ষিণমুখী হয়ে চিনের ডংইং বন্দরের দিকে রওনা দেয়। যদিও এই ধরনের গন্তব্যের তথ্য চূড়ান্ত নয় এবং যে কোনও সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
advertisement
শুভেন্দুর বিতর্কিত মন্তব্য! তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজও তলব কমিশনের
প্রায় সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতের উদ্দেশে প্রথম তেলের চালান আসছিল। কিন্তু মাঝপথেই সেই জাহাজ হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছে। প্রথমে ভারতের দিকে রওনা দিলেও এখন সেটি চিনের দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত জাহাজটির গন্তব্য কোথায় হবে এবং কে সেই তেলের ক্রেতা—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে সেই সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলির ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় (waiver) দেওয়ায় আবারও ভারতের কাছে তেল পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। যদিও পেমেন্ট, পরিবহণ এবং বিমা সংক্রান্ত জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ‘পিং শান’ জাহাজটিতে প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। Kpler-এর বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়ার মতে, এই চালানটি ২০১৯ সালের পর ভারতের জন্য প্রথম ইরানি তেল সরবরাহ হতে পারত।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, এই তেল ভাদিনারে Nayara Energy-র রিফাইনারিতে পৌঁছবে। তবে এখন সেই পরিকল্পনায় বদল এসেছে। উল্লেখ্য, ভাদিনার বন্দর Bharat Petroleum Corporation Limited (BPCL)-এর বিনা রিফাইনারি সহ একাধিক ইউনিটে তেল সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
ভারত অতীতে ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ছিল। একসময় ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ১১.৫ শতাংশই আসত ইরান থেকে। ২০১৮ সালে ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করত, যা ২০১৯ সালের মে মাসে কমে দাঁড়ায় প্রায় ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ব্যারেলে। এরপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সম্পূর্ণভাবে সেই আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।
