২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপসারণের পর থেকেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছে। দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিনি নাটকীয়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী নেতা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: ‘কেমন চলছে মাধ্যমিক?’, পরীক্ষা শুরু আগেই স্কুলে মুখ্যমন্ত্রী! খোঁজ নিলেন পড়ুয়াদের
advertisement
তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের প্রচার করছে রাজনৈতিক দলগুলি৷ এবার বাংলাদেশে নির্বাচনের আগেই এই প্রতিবেদনে রইল নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য৷
বাংলাদেশের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছিল ২২ জানুয়ারি ২০২৬, শেষ হচ্ছে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত
একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত একটি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয় রয়েছে
ভোট গণনা শুরু হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে
নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করবে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে৷
কারা ভোট দিতে পারবেন
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রায় ১২৭ মিলিয়ন (১২.৭ কোটি) ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য।
নির্বাচনের দিন যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি এবং যাদের নাম নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে, কেবল তারাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
লড়বে কোন কোন দল?
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) — নেতৃত্বে তারেক রহমান
সদ্য গঠিত ১১ দলীয় জোট, যার নাম ‘লাইক-মাইন্ডেড ১১ পার্টিজ’ — নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে স্থগিত এবং নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ বা জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে।
এর মধ্যে: ৩০০টি আসন সরাসরি নির্বাচিত
৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত
সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটকে সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১টি আসন জিততে হবে। নারী সংরক্ষিত আসনগুলি নির্বাচনের পরে দলগুলির প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টন করা হয়, যা সরকার গঠনের প্রাথমিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রভাব ফেলে না। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ অন্তত ২০০টি আসন।
প্রশাসনিক কাঠামো
বাংলাদেশ ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। স্থানীয় সরকার শিক্ষা, পৌর পরিষেবা ও গ্রামীণ উন্নয়নের দায়িত্বে থাকলেও আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। জাতীয় সংসদের সদস্যদের মেয়াদ পাঁচ বছর।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বাংলাদেশের৷ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেআওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবং সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা সীমিত করেছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকেও প্রত্যাহার করেছে। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াক্ষেত্রেও। গত মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) গ্রুপ ম্যাচ ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন নাকচ করায় বাংলাদেশ পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
