ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা এজেন্সিগুলিও বাংলাদেশের এই নির্বাচনের ফলের উপরে কড়া নজর রেখেছিল৷ পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে জামাতের এই দাপটে ভারতের পক্ষে উদ্বেগের বলেও মনে করছে এজেন্সির কর্তারা৷
সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিং-এ বিএনপি ভাল ফল করেছে৷ এই এলাকাগুলি মূলত শহরাঞ্চল, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের প্রভাবও রয়েছে এই এলাকাগুলিতে৷
অন্যদিকে সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া এবং খুলনার যে অংশ পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া এবং রংপুর অঞ্চল জামাতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ভোটের ফলে উঠে এসেছে৷ সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া এবং রংপুর অর্ধ বৃত্তাকারে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং শিলিগুড়ি করিডরের দিকে মুখ করে অবস্থান করছে৷ ফলে ওই অংশে জামাতের প্রভাব বৃদ্ধি ভারত বিরোধী মনোভাবে উস্কানি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷
advertisement
ভারতীয় গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা এজেন্সির পর্যবেক্ষণ, জামাত প্রভাবিত পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলি গ্রামীণ প্রত্যন্ত এলাকা৷ সেখানে প্রচুর পরিমাণে মসজিদ, মাদ্রাসার নেটওয়ার্ক রয়েছে৷ এই এলাকাগুলির অতীতে হিংসাত্মক ইতিহাসও রয়েছে৷ এই সমস্ত অঞ্চলে এবারের নির্বাচনে জামাতের প্রভাব বাড়ায়ে প্রথমে চাপে পড়বেন সেখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুরা৷ জমি বিবাদ, আইনি ফাঁসে ফেলে তাদের গোপনে এলাকা অথবা দেশ ছাড়া করার জন্যও চাপ দেওয়াও হতে পারে৷
ওই পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় রাজ্যগুলিতে অল্প সংখ্যাতেও মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসে আশ্রয় নেয়, তাহলে তা ধর্মীয় মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে৷ পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়েছে, ভারত সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকাগুলিতে এতদিন রাখঢাক করে যারা ভারত বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হত, তারা এবার জামাতের সৌজন্যে স্থানীয় প্রশাসনকে ছত্রছায়ায় অনেক নিশ্চিন্তে নিজেদের কাজ করতে পারবে৷ একই ভাবে চরমপন্থীদের তৎপরতাও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ প্রশাসনে জামাতের দাপট বাড়ায় এবার ভারতে প্রশিক্ষিত হ্যান্ডলার, ভারত বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী করে এমন চরমপন্থীদের সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মতো ভারতীয় এলাকায় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ ফলে সংখ্যায় কম অনুপ্রবেশ হলেও এক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত হ্যান্ডলাররা ভারতে ঢুকে পড়লে তার প্রভাব অনেক বেশি কার্যকরী হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করছে ভারতীয় এজেন্সিগুলি৷
