ঢাকা: অবশেষে এল সেই দিন৷ ১২ ফেব্রুয়ারি৷ যে দিনটার জন্য সম্ভবত অধীর অপেক্ষা করে বসে রয়েছে আপামর বাংলাদেশবাসী৷ দীর্ঘ হিংসা পর্ব, অস্থিরতা শেষে দেখছেন স্থায়ী কোনও সমাধানের স্বপ্ন৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ত্যাগের প্রায় বছর দু’য়েক পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন৷ সঠিক ভাবে বলতে গেলে ২০০৮ সালের পরে এভাবে ভোট দেখেনি বাংলাদেশ৷ প্রয়োগ করতে পারেনি সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার৷ হাসিনা যুগের অবসানের প্রায় বছর দু’য়েকপরে অবশেষে এসেছে সেই সুযোগ৷ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাংলাদেশের ২৯৯টি কেন্দ্রে শুরু হবে ভোটগ্রহণ৷ চলবে বিকেল ৪টে পর্যন্ত৷ তারপর, এদিনই বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে শুরু গণনা৷ ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোটের রেজাল্ট৷
বাংলাদেশ সংসদের মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ভোটগ্রহণ হবে ২৯৯টি আসনে৷ একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত একটি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে আজ, বৃহস্পতিবার৷ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয় থাকছে৷ বাংলাদেশের ২৯৯টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী৷ আগামিকাল, বৃহস্পতিবার ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন মোট ১২৭ মিলিন রেজিস্টার্ড ভোটার৷
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত দু’টি রাজনৈতিক শিবির৷ এক দিকে রয়েছে, বাংলাদেশের সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি৷ বর্তমানে, যার চেয়ারপার্সন তাঁর ছেলে তারেক রহমান৷ অন্যদিকে, জামাত-এ-ইসলামি এবং জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী ছাত্র যুবদের নব প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১টি রাজনৈতিক দলের জোট৷
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েই আমেরিকা থেকে স্ত্রী জুবাইদা ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তারেক৷ জনমত সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ বাংলাদেশীর সমর্থন রয়েছে তারেকদের কাছে৷ জামাতদের জোটের পক্ষে রায় দিতে পারেন বাংলাদেশের ৩০-৩৪ শতাংশ মানুষ৷
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’ Eminence Associates for Social Development (EASD) অধীনে একটি জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগামিকালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ২০৮ টি আসনে জয়লাভ করতে পারে বিএনপি-র জোট৷ সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান৷ ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, জামাত-এ-ইসলামির নেতৃত্বাধনী জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন৷ জাতীয় পার্টি পেতে পারে ৩টি আসন, অন্যান্য দল ৪টি এবং নির্দল প্রার্থী জিততে পারে ১৭ আসন৷
বাংলাদেশের ৩০০টি কেন্দ্র জুড়েই মোট ৪১, ৫০০ জনের উপরে চালানো হয়েছিল এই সমীক্ষা৷ সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬৬.৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তাঁরা বিএনপি-কে সাপোর্ট করতে চান৷ পাশাপাশি, জামাতের প্রতি ১১.৯ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রতি ১.৭ শতাংশ৷ সমীক্ষা অনুযায়ী, জাতীয় পার্টি পেতে পারে ৪ শতাংশ ভোট৷ নির্দল পেতে পারে ২.৬ শতাংশ ভোট৷
