রাহুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক, বাবলু দাস। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি রাহুলের গাড়ি চালাচ্ছেন। তাঁর গাড়িতে করেই কলকাতা থেকে দিঘায় শ্যুটিংয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। যে সময় ঘটনা ঘটছে, তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷
advertisement
রাহুলের গাড়ির চালক বলেন, ‘‘হাঁটু অবধি জলেই ওঁকে দেখছিলাম। তারপরে হঠাৎ দেখলাম, ওঁর শুধু মাথাটা ভাসছে।’’ টেকনিশিয়ানরা জানাচ্ছেন, হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে শ্যুটিং করছিলেন রাহুল এবং তাঁর সহ অভিনেত্রী শ্বেতা৷ একটা বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় তাঁরা দু’জনেই একটা গর্তে পড়ে যান৷ ঢেউয়ের জন্যই কি হঠাৎ পায়ের নীচের বালি সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছিল?
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে এও শোনা যাচ্ছে, রাহুল যখন সমুদ্রে নেমেছিলেন, তখন শান্তই ছিল সমুদ্র। তবে ৪টে নাগাদ আচমকাই জল বেড়ে যায়। অনুমান হয়তো জোয়ারের প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এমনিতেও তালসারির সমুদ্র সম্পর্কে এ কথা প্রচলিত যে আচমকা সেখানে জল বেড়ে যায়। শোনা গিয়েছে, এদিন বড় ঢেউয়ের কবলে পড়েছিলেন অভিনেতা। ঢেউয়ের ধাক্কা সামাল দিতে পারেননি রাহুল। সেই সঙ্গে ছিল চোরাবালির ফাঁদ। অনুমান, সব মিলিয়েই তলিয়ে গিয়েছেন অভিনেতা।
বাবলু দাস জানিয়েছেন, ‘‘যে চড়ে শ্যুটিং হচ্ছিল, সেখানে যাওয়ার জন্য একটা মোটর বোট ছিল। রাহুলদারা ডুবে যাচ্ছে দেখে সঙ্গে সঙ্গে মোটর বোটটা কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। আমরাও অন্যান্য নৌকা ডাকি। কিন্তু ঠিক ওই জায়গাটাতে অসম্ভব জলের টান। একবার করে সামনে আসার চেষ্টা করছিলেন উনি, কিন্তু ফের জল ওঁকে টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছিল। একটু যদি সুযোগ দিতেন, ওঁকে বাঁচাতে পারতাম। কিন্তু একটু ও সুযোগ দিলেন না আমাদের। সেই সময়ে জোয়ার চলে এসেছে, জল বাড়ছে।’’ বাবলু দাস জানিয়েছেন, প্রথমে নায়িকা শ্বেতাকে জল থেকে তোলা হয়, কিন্তু, রাহুলকে খুঁজে পাওয়ার যাচ্ছিল না৷
আরও পড়ুন: ক্যারাম খেলে সাসপেন্ড হয়েছে জওয়ান! এমন ঘটনা এড়াতে এবার বৈঠক নোডাল অফিসারের
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড জল ঢুকে রাহুলের ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল৷ খাদ্যনালীতেও ভরে গিয়েছিল বালি৷ ঠিক যেমনটা সমুদ্রের বালি জলের নীচে দীর্ঘক্ষণ থাকলে হওয়ার কথা৷
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে ওড়িশা পুলিশ যা জানিয়েছে, সেখানকার বয়ানও খানিক একই রকম৷ পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, ‘‘গতকাল তালসারি আইআইসি (IIC) দিঘার পুলিশের কাছ থেকে একজন বাঙালি অভিনেতার মৃত্যুর খবর পান, যার দেহ দিঘা মেডিক্যাল কলেজে ছিল। পরে তালসারি ও দিঘা পুলিশের যৌথ তদন্তে জানা গেছে যে, ঘটনাটি গতকাল বিকেল ৫:৩০ নাগাদ ঘটেছিল। একটি সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্বেতা মিশ্র হাঁটু সমান জলে নাচছিলেন। আচমকাই তারা দুজনেই একটি গর্তে পড়ে যান এবং তাদের টিম তৎক্ষণাৎ তাদের দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে পুরুষ অভিনেতাটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুটিংয়ের বিষয়ে প্রোডাকশন টিম আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়নি বা কোনো অনুমতিও নেয়নি। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালসারি পুলিশ দিঘা পুলিশের সাথে যোগাযোগ রাখছে।”
প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের অনুমতি ছাড়া জলে নেমে চরে গিয়ে কী ভাবে শ্যুটিং চলছিল? অভিনেত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও কেন করা গেল না রাহুলকে? লাইফ সেভিং গার্ড, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টিম না নিয়েই সমুদ্রের ধারে কীভাবে শ্যুটিং?
