প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপত্তি ঘটে। সমুদ্রের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে আচমকাই সমুদ্রে তলিয়ে যান। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করেন, পরে স্পিড ভোটের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় তাকে উদ্ধার করেছিলেন ওড়িশার তালসারির বিন্দপদ্মপুর এলাকার বাসিন্দা ভগীরথ জানা।
advertisement
ভগীরথ তালসারী সমুদ্র সৈকত এলাকায় মাছ ধরে ও বোট চালান। নিজের জীবনের বাজি রেখে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে অভিনেতা ও অভিনেত্রীকে উদ্ধার করে ভগীরথ। উদ্ধারের তিনি নিজেও সমুদ্রের জল খেয়ে ফেলেন। উদ্ধারের সেই ভয়াবহ দৃশ্যের কথা ভগীরথ জানায়, “বিকেল ঠিক সাড়ে চার’টে পাঁচ’টা নাগাদ ওঁরা শুটিং করছিলেন। ওপরের ড্রোন উড়ছিল। সেকেন্ড শিফটে মোহনায় শুটিং চলছিল, তখন জোয়ারের জলও বাড়ছিল। উনাদের বারণ করে শুটিং টিম, বেশি দূরে যাবে না। উনারা বুঝতে পারেননি গর্ত রয়েছে, পড়ে যান।”
কীভাবে উদ্ধার করল ভগীরথ? ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ভগীরথ বলেন, “চিৎকার শোনা যায়। লোকজনও যেতে দেখি। এরপর আমি আমার মাছ ধরার বোট নিয়ে সমুদ্রে যাই একা। উনাদের পাঁচ-ছ’জন ছিল সঙ্গে, কিন্তু তাঁরা সাঁতার কাটতে জানেন না। অভিনেত্রীকে দড়ি ধরতে বলে আমি সমুদ্রে ঝাঁপ দিই। অভিনেতা তখন বোট থেকে অনেকটা দূরে। তারপর উনাকে উদ্ধার করে সাঁতার কাটতে কাটতে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাই। ততক্ষণে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়ে গিয়েছে। অভিনেত্রী এবং অভিনেতা দু’জনকে উদ্ধার করি। উদ্ধার করার পর ওনার প্রাণ ছিল। আমি নিজে ওনার পেট থেকে জল বের করেছি। আমি নিজেও অনেকটা সামুদ্রিক জল খেয়ে ফেলেছিলাম।”





