সবকিছু উথালপাথাল, ওলটপালট লাগছিল! ঝাপসা হয়ে এসেছে চোখদুটো। মাথার মধ্যে কে যেন আতুড়ি পেটাচ্ছে! কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়লেন মধ্যবয়সি মহিলা! চোখের সামনে ভেসে উঠল ছোট্ট রাহুলের মুখটা, কানের কাছে ভাসতে কাগল সেই গলার স্বর, ” মাসি, আমি আসছি তোমার কাছে।”
ছোটবেলা থেকেই রাহুলের কাছে শিলিগুড়ির অরবিন্দপল্লির বাড়িটা ছিল আলাদা এক আশ্রয়। কাজের ফাঁকে, শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও সময় পেলেই ছুটে আসতেন মাসির কাছে। বিজয়া দেবীও অপেক্ষা করে থাকতেন, কখন দরজায় কড়া নাড়বে প্রিয় ভাগ্নে। আজ সবই থেমে গেল! আর আসবে না রাহুল। কথা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে যান মহিলা। চোখে জল, গলার স্বর বুজে আসছে। কোনওমতে বললেন, ” ও খুব ভালো সাঁতার জানত, জলে ডুবে যাবে এটা ভাবতেই পারছি না।”
advertisement
তিনি আরও বলেন, ”কলকাতায় গেলেই বলত, মাসি, তোমার হাতের মাংস রান্না করে রেখো, আমি এসে খাবো।” কথাগুলো বলতে বলতেই আবার ভেঙে পড়েন বিজয়া দেবী।
রবিবার সন্ধ্যায় রাহুলের প্রয়াণের খবরটা পান বিজয়া দেবী। ” আমি কী করে দিদির সামনে দাঁড়াব?” নিজেকেই প্রশ্ন করেন তিনি। ঘরের কোণে রাখা একটা পুরনো চেয়ার রাখা। সেখানে বসেই রাহুল গল্প করত, হাসত, খুনসুটি করত। আজ সেই চেয়ার ফাঁকা। বাড়িটাও যেন নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছে। বিজয়া দেবী ধীরে ধীরে বলেন, ”একটা বিশাল ক্ষতি হয়ে গেল, এই শূন্যতা আর কোনওদিন ভরবে না।”





