সম্প্রতি হৃতিকা গিরি নামে এক মডেলকে হিরণের বিয়ের ঘটনায় বিতর্ক ছড়ায়। হিরণের বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। যা নিয়ে তুমুল চর্চা হয় রাজ্য জুড়ে। ফলে খড়গপুর আসনে হিরণকে প্রার্থী না করে ফের দিলীপ ঘোষেই আস্থা রাখাটা অনেকটাই প্রত্যাশিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
advertisement
সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ প্রসঙ্গে হিরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যদি কেন্দ্রীয় কমিটি আমাকে টিকিট দেন, তা হলে আমি চাইব দিলীপবাবু যেন আমার হয়ে প্রচার করেন এখানে। একেবারে মন থেকে যাতে প্রচার করেন।’’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, দল কি কিছু নির্দেশ দিয়েছে, খড়গপুর থেকে হিরণই লড়বেন কিনা সেই বিষয়ে? হিরণের বক্তব্য, “আমাকে দল বলেছে, খড়গপুরে যেরকম কাজ করছি মানুষের জন্য, তেমনই করে যেতে।”
যদিও বাস্তবে দেখা গেল অন্য ছবি। পছন্দের খড়্গপুরে ফিরলেন দুঁদে নেতা দিলীপ ঘোষ। শেষপর্যন্ত হিরণকে সরিয়ে খড়্গপুর সদরে ফিরলেন দিলীপ ঘোষ। সোমবার বিজেপি ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আর সেই তালিকায় খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হিসেবে জ্বলজ্বল করছে দিলীপের নাম।
২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর সদর থেকে জিতেছিলেন দিলীপ। হারিয়েছিলেন কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহনপালকে হারিয়ে শিরোনামে উঠে আসেন বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত খড়্গপুর সদরের বিধায়ক ছিলেন দিলীপ। তারপর মেদিনীপুর থেকে লোকসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক পদ ছাড়েন। একুশের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
এবার হিরণও খড়্গপুর সদরে টিকিট পাওয়া নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। অন্যদিকে গত বছরের এপ্রিলে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল দিলীপের। পদ্মশিবিরের কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। তবে গত বছরের শেষে অমিত শাহের বঙ্গ সফরের পর ফের সক্রিয় হতে দেখা যায় দিলীপকে। শাহের সঙ্গে দেখা করার পরই দিলীপকে পুরনো মেজাজে দেখা যেতে শুরু করে। আবার ব্রিগেডে মঞ্চেও হালকা মেজাজে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিয়ের মিষ্টি খেতে চান দিলীপের কাছে। এই আবহে হিরণকে বাদ দিয়ে খড়্গপুর সদরে টিকিট দেওয়া হল দিলীপকে। ২০১৬ সালের মতো তিনি জিততে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
