যদিও এখনও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি, তবু বিজেপির এই সিদ্ধান্ত কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার বার্তা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বর্তমানে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক নিজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলে তিনি যদি সেখান থেকেই প্রার্থী হন, তবে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি লড়াই দেখা যেতে পারে।
advertisement
এই ৩টি ফল ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক! নিয়মিত খেলেই মিলতে পারে অবাক করা ফলাফল
বিজেপি সাধারণত নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করে না। তবু প্রথম প্রার্থী তালিকায় শুভেন্দু অধিকারীকে ভবানীপুরে প্রার্থী করা অনেকের কাছেই বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী? যদিও দল আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
দলীয় সূত্রের দাবি, ভবানীপুরে শুভেন্দুকে প্রার্থী করে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘাঁটিতেই সরাসরি লড়াইয়ের জন্য তারা প্রস্তুত। ভবানীপুর একটি বহুসাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং এই কেন্দ্রের কয়েকটি ওয়ার্ডে অতীত নির্বাচনে বিজেপি এগিয়েও ছিল। সেই জায়গাগুলিকে ভিত্তি করে ভোটের লড়াই শক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
একই সঙ্গে বিজেপি শুভেন্দু অধিকারীকে আবারও প্রার্থী করেছে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে জয় পেয়েছিলেন তিনি। ফলে যদি মমতা ভবানীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু সরে যেতে পারে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ঘাঁটিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রধান প্রচারমুখ। তাঁকে যদি ভবানীপুরে বেশি সময় ব্যয় করতে হয়, তবে সারা রাজ্যে প্রচারে সময় দেওয়া কিছুটা সীমিত হতে পারে—এমন কৌশলই বিজেপির থাকতে পারে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। সেই ঘোষণার মাত্র একদিন পরই বিজেপি প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যা অনেকের মতে নির্বাচনী প্রস্তুতি আগেভাগে দেখানোর কৌশল।
বিজেপির প্রথম তালিকায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর নাম রয়েছে। নৈহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বাংলার ‘সাহিত্যসম্রাট’ তথা বন্দে মাতরম্-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য।
ঘোষিত তালিকায় মোট ৪১ জন বর্তমান বিধায়ক রয়েছেন। এছাড়া তিন জন প্রাক্তন বিধায়ক—করিমপুরের সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, মন্তেশ্বরের সৈকত পাঁজা এবং পাণ্ডবেশ্বরের জিতেন্দ্র তিওয়ারির নাম রয়েছে। তালিকায় দুই প্রাক্তন সাংসদও রয়েছেন—রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে স্বপন দাশগুপ্ত এবং খড়্গপুর সদর থেকে দিলীপ ঘোষ।
তৃণমূল এখনও তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়বেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। তবে যদি তিনি সেখানে প্রার্থী হন, তাহলে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে অন্যতম আকর্ষণীয় সংঘর্ষ হয়ে উঠতে পারে।
