২০২৩ সালে সুজালির ক্যানসার ধরা পড়ে। প্রথমে ওভারিতে টিউমর, সেই টিউমর থেকে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে। অপারেশন তারপর কেমো থেরাপি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। স্কুলে বরাবরই ভাল ছাত্রী ছিল সুজালি। পাশাপাশি স্কুলের সব অনুষ্ঠানে অংশ নিত। তাই দিদিমনিদের প্রিয় ছিল। মাধ্যমিকে সাত শতাংশ নম্বর পেয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে পাস করেছিল। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পরে। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে বেডে বসেই থেকেই শেষ চারটি পরীক্ষা দেয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ বাড়িতে একের বেশি তুলসীগাছ থাকলে সংসার তছনছ? সর্বাধিক কটি তুলসীচারা রাখা যেতে পারে? ক্ষতি এড়াতে জানুন
চন্দননগর কৃষ্ণভাবিনী নারী শিক্ষা মন্দিরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছিল সুজলির। সেখানে পরীক্ষা দিতে দিতে অসুস্থ হয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার হুগলি জেলা জয়েন্ট কনভেনার শুভেন্দু গড়াই বলেন, ওই ছাত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়েই তাকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। এনআরএস হাসপাতাল থেকে যাতে পরীক্ষা দিতে পারে, তা ঠিক করা হয়। ছাত্রীটি মেধাবী ছিল। অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু রেজাল্ট দেখে যেতে পারল না। খুব খারাপ লাগছে।
সুজলির যখন ১১ দিন বয়স তখন তাঁর মা মারা যায়। সেদিন থেকেই মামা সত্যজিৎ রায়ের কাছে মানুষ হয়। মণ্ডলপাড়া জুট মিলের শ্রমিক মামা অনেক কষ্ট করে তার ভাগ্নীকে মানুষ করেন। ক্যানসার ধরা পড়ার পর তার সবরকম চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। স্কুলের শিক্ষিকারা সুজলিকে অনেক সাহায্য করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কে খণ্ডাতে পারে? কোনওভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল ঠিকই, তারপর আর সুস্থ হতে পারেনি। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরোনোর আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় তাকে।
ফলাফল প্রকাশের পর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অর্পিতা মণ্ডল সুজলির মামাকে ফোন করে খবর দেন। দু-চোখ জলে ভিজে যায় মামার। প্রথম বিভাগে পাশ করেছে ভাগ্নি, কিন্তু দেখে যেতে পারল না, আক্ষেপ মামার।





