ছোটবেলায় মায়ের কাছেই প্রথম গান শেখা। সুর আর তাল তখন থেকেই মনে গেঁথে যায়। পরে কলেজে ভর্তি হন বাংলা সাহিত্য নিয়ে। সেখানেই বদলে যায় জীবনের দিশা। পাঠ্য কবিতার ছন্দ। শব্দের গভীরতা। উচ্চারণের সৌন্দর্য। সব মিলিয়ে আবৃত্তির প্রতি জন্ম নেয় আলাদা টান। ক্লাসের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠ নজরে আসে এলাকার সাহিত্যপ্রেমীদের। উৎসাহ পান। সাহস পান। এরপর একে একে বিশিষ্ট বাচিক শিল্পীদের কাছে তালিম নেওয়া। প্রতিটি দিন ছিল শেখার। প্রতিটি মঞ্চ ছিল নতুন পরীক্ষা। ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে তাঁর নিজস্ব ভঙ্গি। নিজস্ব কণ্ঠস্বর।
advertisement
তারপর ডাক আসতে শুরু করে বড় মঞ্চ থেকে। কলকাতার রবীন্দ্রসদন, শিশির মঞ্চ, গিরিশ মঞ্চ, বাংলা অ্যাকাডেমি এমনকি শান্তিনিকেতনও। প্রতিটি মঞ্চে দর্শকাসন ভরে ওঠে। আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হন শ্রোতারা। শব্দের উচ্চারণে। আবেগের গভীরতায়। কবিতার জীবন্ত উপস্থাপনায়। শুধু অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছেন নিজেকে। ডিজিটাল মাধ্যমকে আপন করে নিয়েছেন। অনলাইনে শুরু করেছেন আবৃত্তির ক্লাস। দেশের নানা প্রান্তের ছাত্রছাত্রী যুক্ত হয়েছে তাঁর সঙ্গে। এমনকি বিদেশ থেকেও। আজ তাঁর ছাত্রীদের তালিকায় রয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
যে সময়ে গ্রামের মেয়েরা কর্পোরেট চাকরির স্বপ্ন দেখে শহরমুখী হয়, সেই সময়েই মধুমিতা মাইতি প্রমাণ করেছেন অন্য পথও সম্ভব। সাধারণ গ্রামবাংলা থেকে উঠে এসে বাংলা সাহিত্যকে আঁকড়ে ধরেই গড়ে তোলা যায় পরিচয়। তৈরি করা যায় নিজস্ব মঞ্চ। তাঁর যাত্রা দেখিয়ে দেয়, আগ্রহ আর অধ্যবসায় থাকলে ভাষাই হতে পারে শক্তি। আবৃত্তিই হতে পারে জীবনের পথ। আজ তিনি শুধু একজন শিল্পী নন। তিনি অনুপ্রেরণা। বাংলা ভাষার এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। যাঁর যাত্রা এখনও চলমান। সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় মঞ্চ।





