শিলিগুড়িতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের পর্যটন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রায় জানান, ভারতের পর্যটন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটক এসেছেন। তাঁর কথায়, এই সংখ্যাই প্রমাণ করছে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনের প্রতি বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। গজলডোবা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব। তিনি জানান, গজলডোবাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ওই এলাকাকে একটি আকর্ষণীয় ওয়েডিং ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রজাপতি পার্ক ও অর্কিড পার্ক তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝেই পর্যটকেরা বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করতে পারেন।
advertisement
আরও পড়ুনঃ কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০ ডিগ্রি ভিউ, অপূর্ব সব হোমস্টে! গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন কালিম্পংয়ের ‘৫’ হ্যামলেট
পর্যটন দফতরের মতে, বর্তমানে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র উচ্চবিত্তদের মধ্যেই এই প্রবণতা সীমাবদ্ধ ছিল, এখন বহু মধ্যবিত্ত পরিবারও বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য পর্যটন আবাস বুক করছেন। এই চাহিদাকে সামনে রেখেই বড়দিঘী, গজলডোবা সহ একাধিক সরকারি পর্যটন আবাস বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রায় জানান, উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হোমস্টেগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। তাঁর কথায়, টি ট্যুরিজম প্রকল্পের অধীনে চা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে টি বাংলো, হোটেল ও রেস্তোরাঁ তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হয়। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গকে আরও বড় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই পরিকল্পনা বলে মনে করছে পর্যটন মহল। প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং নতুন ভাবনার মেলবন্ধনে গজলডোবার মতো জায়গা আগামী দিনে শুধু পর্যটনের নয়, স্মরণীয় জীবনের মুহূর্ত উদযাপনের ঠিকানাও হয়ে উঠতে পারে, এমনটাই আশা পর্যটন দফতরের।





