বর্তমানে সুমন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি চর্চায় বরাবরই আগ্রহী ছিলেন তিনি। সেই আগ্রহই তাঁকে পৌঁছে দেয় ‘লিঙ্কডইন’-এ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেখান থেকেই তিনি ইন্টার্নশিপের জন্য মনোনীত হন। এরপর গত বছরের মে মাসে বেঙ্গালুরুতে তিন মাসের ইন্টার্নশিপ করেন সুমন। কাজের দক্ষতা ও পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই সম্প্রতি বছরে প্রায় এক কোটি টাকার মোটা মাইনের অফার লেটার পাঠায় সংস্থা।
advertisement
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক দিতে যাওয়ার সময় কান্দিতে পথদুর্ঘটনা, গুরুতর আহত হয়ে পরীক্ষাই দেওয়া হল না ৩ ছাত্রের!
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের জুলাই মাসে কলেজের পাঠ শেষ করেই বেঙ্গালুরুতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। অথচ এই সাফল্যের পিছনের গল্পটা মোটেই ঝলমলে নয়। বাড়বাঁশী গ্রামে তাঁদের একফালি কৃষিজমি থাকলেও বয়সজনিত কারণে বাবা অচল কুমার বেরা এখন আর নিয়মিত চাষবাস করতে পারেন না। দুই দিদির মধ্যে একজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, অন্যজন গ্রামের বাড়িতেই টিউশন পড়িয়ে সংসারে সাহায্য করেন। রাজ্য সরকারের কিছু ভাতা আর সীমিত আয়ের মধ্যেই বড় হওয়া।
আরও পড়ুন: স্কুল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসবে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া! মাথায় রাখুন জরুরি টিপস
অষ্টম শ্রেণি থেকেই স্কলারশিপ পেয়ে নিজের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সুমন। লক্ষ্য ছিল একটাই– জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। তবে সুমনের সাফল্যে তিনি যতটা খুশি, তার থেকেও বেশি আনন্দিত তাঁর কলেজের শিক্ষকরা আর বাড়বাঁশী গ্রামের মানুষজন। গ্রামের চায়ের দোকান থেকে পাড়ার মোড়– সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, “আমাদের গ্রামের ছেলে মাইক্রোসফটে চাকরি পেয়েছে!” সত্যিই, লিঙ্কডইনের এক ক্লিকেই বদলে গেল গ্রামের এক ছেলের জীবন।





