কলেজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সে নিজের শিল্পচর্চা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অবসর পেলেই হাতে তুলে নেয় রং আর তুলি। আজ রাজ্যস্তরে জয়ী সে। মাত্র দশ বছর বয়স থেকেই রং তুলির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই খাতার পাতা ভরে যেত তার আঁকিবুকিতে। অনেক সময় পড়ার খাতাতেও ছবি আঁকতে দেখা যেত তাকে। শিক্ষকরা প্রথমে বিরক্ত হলেও পরে তার প্রতিভা চিহ্নতে পারেন। পরিবারও তাঁকে উৎসাহ দিতে শুরু। পড়াশোনার ফাঁকেও নিয়মিত আঁকা অনুশীলন করতে থাকে। প্রকৃতি, মানুষের মুখ, গ্রামবাংলার দৃশ্য—সবকিছুই তাঁর ছবিতে উঠে আসে। ছোট ছোট খাতায় সে নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করত। সেই আঁকিবুকিই একসময় তার বড় স্বপ্নের পথ খুলে দেয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে পার্কে হাঁটতে গিয়ে হেনস্থা মণিপুরের তরুণী, আদালত চত্বরের কাছে হামলার অভিযোগ
প্রথমে সে স্থানীয় বিভিন্ন আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে। একের পর এক প্রতিযোগিতায় প্রতিবাদ ছাপ রাখেন তিনি। পরে সুযোগ আসে জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার। সেখানেও তাঁর ছবি বিচারকদের নজর কেড়ে নেয়। ধীরে ধীরে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে জেলার বাইরেও। এরপর রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় শিবাশীষ। তাঁর ছবির ভাবনা আর নিখুঁত তুলির টান অনেককেই মুগ্ধ করে। বিভিন্ন জেলার প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে সে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। একাধিক পুরস্কার ও সম্মানও অর্জন করেছেন তিনি।
এখন তার স্বপ্ন আরও বড়। একদিন সে একজন বিখ্যাত চিত্রকর হতে চায়। নিজের ছবির মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চায় সে। তার মতে, ছবি শুধু রং আর কাগজ নয়। ছবির মধ্যে থাকে মানুষের অনুভূতি আর গল্প। তাই প্রতিটি ছবির মধ্যে সে নতুন কিছু ভাবনা রাখার চেষ্টা করে। কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে সে। ভবিষ্যতে বড় প্রদর্শনীতে নিজের ছবি তুলে ধরার স্বপ্নও রয়েছে তার। শিবাশীষের এই প্রতিভা দেখলে অনেকেই থমকে যান। পড়াশোনার ফাঁকেও সে নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছে।





