পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের সোমাইপুর গ্রামের বাসিন্দা রথীন মালিক আউশগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আগের দিন রাত থেকেই তাঁর পেটে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ওষুধপত্র দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে গুসকরা পি পি ইনস্টিটিউশন পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় বাংলা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য।
পরীক্ষায় বসার প্রায় দশ মিনিটের মধ্যেই আবারও পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয় রথীনের। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয় এবং পুলিশের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত গুসকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
advertisement
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউএসজি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু গুসকরা হাসপাতালে ইউএসজি পরিষেবা না থাকায় তাঁকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ওই পরীক্ষার্থী আর পরীক্ষায় বসতে পারেননি।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুসকরা নাগরিক সমিতির কর্মকর্তারা বলেন, গুসকরা হাসপাতালে ইউএসজি পরিষেবা থাকলে ওই পরীক্ষার্থীকে বাইরে নিয়ে যেতে হতো না। প্রয়োজনে হাসপাতালেই বসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেত। আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
শারীরিক অসুস্থতার জন্য এক ছাত্র উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে না পারায় দুঃখিত তার সহপাঠী এবং শিক্ষকরাও। তাঁদের বক্তব্য, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দেওয়ার রাজ্যজুড়ে অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু পেটের ব্যথার জন্য একজন পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারল না, এটা আজকের দিনে ভেবে ওঠা যাচ্ছে না। রাজ্যের অনেক হাসপাতালেরই উন্নতি হয়েছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গুসকরা হাসপাতালের উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন।
