শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানান হল, এই নতুন কারিকুলামের মূল লক্ষ্য হল মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বদলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা গড়ে তোলা। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন, ১ এপ্রিল থেকেই এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এটি সিবিএসই (Central Board of Secondary Education)-র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।
advertisement
তৃতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই কর্মসূচি৷ আগামী বছর থেকে এটি ক্লাস ৯ ও ১০-এও চালু করা হবে। এর লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র মুখস্থবিদ্যার উপর নির্ভর না করে, উচ্চতর মানের চিন্তাভাবনা ও ডিজাইন থিংকিং-এর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
সিবিএসই জানিয়েছে, এই পাঠ্যক্রমে বিদ্যমান NCERT-এর গণিত এবং ‘The World Around Us’ (TWAU) বইয়ের সঙ্গে কম্পিউটেশনাল থিংকিং যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা হ্যান্ডবুকও তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই কারিকুলামটি একটি বিশেষ এআই কমিটির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন কার্তিক রমন। কমিটি মোট ৯ বার বৈঠক করে এই পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করেছে এবং পুরো সিলেবাসটি এনসিইআরটি দ্বারা যাচাই করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, এই উদ্যোগ “AI for education, AI in education” নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি বলেন, “ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর কম্পিউটিং নতুন কিছু নয়, তবে এখন আমরা এআই-কে আরও কাঠামোগতভাবে প্রয়োগ করছি।”
সিবিএসই চেয়ারম্যান রাহুল সিং বলেন, এই কারিকুলামের লক্ষ্য হল ছাত্রছাত্রীদের ডেটাভিত্তিক স্বাধীন চিন্তাশক্তি গড়ে তোলা, যাতে তারা প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব সঞ্জয় কুমার জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হবে এবং তারা মেশিন ও মানুষের চিন্তাভাবনার পার্থক্য বুঝতে শিখবে।
এই পরিবর্তনকে সমর্থন করতে শিক্ষকদের জন্য এআই-ভিত্তিক লেসন প্ল্যান তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে প্রচলিত ব্ল্যাকবোর্ডের পরিবর্তে ইন্টারঅ্যাকটিভ হোয়াইটবোর্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া, এই কারিকুলামকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করার জন্য এনসিইআরটি ও সিবিএসই-কে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের সব শিক্ষার্থী সমানভাবে এর সুবিধা পায়।
