অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম রেভাইয়ার। ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘ অসুস্থতার পর তাঁর বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের কাঁধে। তিনি একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের রান্নার কাজ করে সংসার চালাতেন। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে উঠত। তবুও, সন্তানের পড়াশোনায় কখনও ছেদ পড়তে দেননি তিনি।
advertisement
আরও পড়ুন: ভারতে বড় ধাক্কা, প্রায় ১২,০০০ কর্মী ছাঁটাই, আরও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়
ছোট থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিলেন রেভাইয়া। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আইআইটি-জেইই উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন IIT Madras-এ। জীবনের মোড় ঘোরানো এই সাফল্যের পরও সামনে আসে নতুন চ্যালেঞ্জ—উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় করা। একসময় মনে হয়েছিল পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হন।
আইআইটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি GATE-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং হায়দরাবাদে একটি ভাল বেতনের চাকরি পান। অনেকের কাছে এটাই জীবনের লক্ষ্য পূরণ হলেও, রেভাইয়ার স্বপ্ন ছিল আরও বড়– তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে সমাজের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন। চাকরির পাশাপাশি নিরলসভাবে তিনি UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রস্তুতি চালিয়ে যান। অবশেষে তাঁর কঠোর পরিশ্রম সফল হয়। ২০২২ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৪১০ নিয়ে এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
আরও পড়ুন: এসআইআর বিতর্কে স্বস্তির বার্তা! বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরাতে বড় উদ্যোগ প্রশাসনের
এই সাফল্যে আনন্দে ভরে ওঠে তাঁর পরিবার। বিশেষ করে তাঁর মায়ের জন্য এটি ছিল বহু বছরের ত্যাগ ও পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। ডোংরে রেভাইয়ার এই অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি প্রমাণ করে– পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে স্বপ্ন একদিন সত্যি হবেই।
