রেল শহর খড়গপুরের এক পড়ুয়া নবম শ্রেণির পর আর বিদ্যালয়ে যায়নি। অথচ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন সে ভুয়ো অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে যায়। পরীক্ষকদের নজরে বিষয়টি পড়তেই ধরা পড়ে যায় ওই কিশোর। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ এবং একটি গুরুতর অপরাধের শামিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এত অল্প বয়সে এমন অপরাধমূলক সাহস আসছে কোথা থেকে?
advertisement
আরও পড়ুনঃ জীবনযাত্রার ধরন দিয়েই ৪০% পর্যন্ত ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়, জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞ
এই প্রসঙ্গে শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, এর পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে মোবাইল ফোনের। বর্তমানে খুব সহজেই ছোট ছোট পড়ুয়াদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবকই পড়াশোনার সুবিধার কথা ভেবে মোবাইল দিলেও, বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে বিনোদন ও অনিয়ন্ত্রিত তথ্যের উৎস।
মোবাইলে দেখা বিভিন্ন রিলস, শর্ট ভিডিও কিংবা অপরাধমূলক কনটেন্ট খুব সহজেই শিশুদের মনে প্রভাব ফেলছে। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল—এই বিচারবোধ গড়ে ওঠার আগেই তারা অনুকরণে নেমে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু শৃঙ্খলার অভাব নয়, এক ধরনের মানসিক সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করে। একদিকে অভিভাবকদের নির্দেশ না মানা, অন্যদিকে নিয়ম ভাঙাকে ‘সাহস’ হিসেবে ভাবা—এই মানসিকতা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা না বাড়ালে অপরাধ প্রবণতা ধীরে ধীরে অভ্যাসে, এমনকি পেশায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
তাই শিক্ষামহলের দাবি, অভিভাবকদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত কাউন্সিলিং অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় স্তরেই নৈতিক শিক্ষা, আইন সম্পর্কে সচেতনতা এবং মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ নিয়ে বিশেষ সেমিনার ও কর্মশালা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে আনতে এখনই উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে—এমনই মত শিক্ষাবিদদের।





