তাঁর ছেলে অর্ণব মুখোপাধ্যায় ব্যান্ডেলের ডন বস্কো স্কুলের প্রাক্তনী। মগড়ার একটি বেসরকারি কলেজ থেকে বি-টেক পাশ করার পর বর্তমানে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি গুয়াহাটি-তে এমটেক করছেন। উচ্চশিক্ষার এই পর্যায়েও কেন ভাতার ফর্ম? অলোকবাবুর জবাব স্পষ্ট, “পড়াশোনার খরচ কম নয়। ভবিষ্যতে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও টাকা লাগবে। প্রকল্পের সহায়তা পেলে উপকারই হবে। তাই ফর্ম তুললাম। ওর কোর্স শেষ হবে ২০২৭ সালে।”
advertisement
আরও পড়ুনঃ দুর্মূল্যের বাজারে ‘দশ টাকায়’ পেট ভরা খাবার! এই লুচির দোকান এখন আলোচনায়
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম বিলি, চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পে মিলছে ফর্ম, পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ। পাঁচ বছর মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আবেদনকারী প্রকৃতই কর্মহীন কি না, তা খতিয়ে দেখবেন সরকারি আধিকারিকেরা।
কিন্তু চুঁচুড়ার শিবিরে চোখে পড়ছে অন্য ছবি উচ্চশিক্ষিতদের দীর্ঘ লাইন । সেই ছবি ঘিরেই রাজনৈতিক তরজা । বিজেপি নেতা সুরেশ সাউয়ের কটাক্ষ, “ভাতা দেওয়া ভাল। কিন্তু আইআইটি পড়ুয়াও যদি লাইনে দাঁড়ায়, তা হলে বুঝতে হবে কর্মসংস্থানের হাল কী !” পালটা তৃণমূল কাউন্সিলর ঝন্টু বিশ্বাসের দাবি, “এটি দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য । যতক্ষণ না চাকরি মিলছে, ততক্ষণ সহায়তা প্রয়োজন । উচ্চশিক্ষিতদেরও তো প্রস্তুতির সময় লাগে ।” মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ বা অন্যান্য শিক্ষাবৃত্তি পেলেও যুবসাথীতে আবেদন করা যাবে। তবে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধুর মতো অন্য আর্থিক ভাতা নিলে একসঙ্গে এই সুবিধা মিলবে না।
চুঁচুড়ার লাইনে দাঁড়ানো মুখগুলো যেন এক দ্বৈত বাস্তবতার ইঙ্গিত একদিকে উচ্চশিক্ষার সিঁড়ি বেয়ে ওঠা যুবসমাজ, অন্যদিকে অনিশ্চিত কর্মসংস্থান। যুবসাথীর ফর্ম হাতে সেই টানাপোড়েনই যেন আরও স্পষ্ট। তবে এখানেই উঠে আসছে প্রশ্ন, উচ্চশিক্ষিত নামি কলেজে পড়া পড়ুয়ার আদতেও কি প্রয়োজন বেকার ভাতার নাকি শুধুমাত্র সুযোগের সদ্ব্যবহার!






