বর্তমানে বসন্তের এই সময়ে বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার ধারে কিংবা পতিত জমিতে প্রচুর সজনে গাছ দেখা যায়। আগে এসব গাছের ডাটাই ছিল মূল আকর্ষণ। কিন্তু এখন বাজারে সজনে ফুলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় ফুলই হয়ে উঠেছে আয়ের প্রধান উৎস। কলকাতার বাজারে এই ফুলের চাহিদা থাকায় গ্রামাঞ্চলের যুবকেরা সরাসরি পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একদল যুবক গাছের মালিকদের কাছ থেকে প্রতিটি সজনে গাছ দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় লিজ নিচ্ছেন। এরপর নির্দিষ্ট সময় ধরে গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করছেন। গড়ে প্রতি কেজি ফুল কলকাতায় পাইকারি বাজারে প্রায় ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। মরশুমে একটি গাছ থেকে ফুল বিক্রি করে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব হচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে কাজটা শুধু ফুল পাড়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। গাছ থেকে সতর্কভাবে ফুল সংগ্রহ করার পর তা পরিষ্কার করে বাছাই করা হয়। এরপর সেগুলি সুন্দরভাবে গুছিয়ে প্যাকেটজাত করে ভ্যান বা গাড়িতে করে কলকাতার পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটাই অত্যন্ত যত্ন ও সময়সাপেক্ষ। স্থানীয় যুবকদের কথায়, অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। পাশাপাশি গ্রামের বাড়ির আশেপাশের অব্যবহৃত গাছগুলিও এখন আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসছে, তেমনি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, সেখানে সজনে ফুল বিক্রির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভরতার পথে হাঁটার এই প্রচেষ্টা অন্যদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।





