মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়ছে জ্বালানি ক্ষেত্রে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে কাতারের একটি গ্যাস প্লান্টে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভারত-সহ বহু দেশে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলপিজি বা লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস মূলত গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু জায়গায় এর ঘাটতিও অনুভূত হচ্ছে।
advertisement
রাজনীতি ছাড়বেন রিঙ্কু? ‘সবার জন্য নিয়ম এক হওয়া উচিত …’ ক্ষুব্ধ দিলীপজায়া টিকিট না পেয়ে যা বললেন!
ওয়ার্ল্ডোমিটার্স-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এলপিজি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশ হল—
- প্রথম স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বছরে প্রায় ৩২,৯১৪,৬৪৭,০০০ এমএমসিএফ এলপিজি উৎপাদন হয়। দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া (২২,৭২৮,৭৩৪,০০০ এমএমসিএফ)। তৃতীয় স্থানে ইরান (৯,০৯৭,৯৫৬,২৪৫ এমএমসিএফ)।
- এর পর রয়েছে কানাডা (৬,৭৫১,৬৯৮,২৭৫ এমএমসিএফ) চতুর্থ স্থানে এবং আলজেরিয়া (৬,৪৯১,৭৪৪,৫৬০ এমএমসিএফ) পঞ্চম স্থানে। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কাতার (৬,০০০,৯৩৬,৬৯০ এমএমসিএফ)। সপ্তম স্থানে নরওয়ে (৫,৭৬৩,৪০৮,০০০ এমএমসিএফ)।
- অষ্টম স্থানে রয়েছে চিন (৪,৫৫৯,৬২৫,৫৯৫ এমএমসিএফ), নবম স্থানে সৌদি আরব (৪,২৩১,৭৯৬,৪৫০ এমএমসিএফ) এবং দশম স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (৩,১৭৮,৭৩৮,৪৬৫ এমএমসিএফ)।
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, বিশ্বের এলপিজি উৎপাদন মূলত কয়েকটি বড় দেশের হাতেই কেন্দ্রীভূত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হলে বিশ্বজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ও দামের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এই তালিকায় ভারত শীর্ষ ৩০ দেশের মধ্যে থাকলেও অবস্থান ২৯ নম্বরে। অর্থাৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখনও ভারত অনেকটাই পিছিয়ে এবং আমদানির উপর নির্ভরশীল।
এলপিজি গ্যাস আসলে কী? এলপিজি মূলত দুটি গ্যাস—প্রোপেন এবং বিউটেনের মিশ্রণ। এই গ্যাসগুলো চাপ প্রয়োগ করে তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে ভরে রাখা হয়, তাই এর নাম ‘লিকুইফায়েড’। সিলিন্ডারের ভালভ খোলা হলে এটি আবার গ্যাসে পরিণত হয়ে জ্বলে ওঠে।
গৃহস্থালির রান্নার জন্য এলপিজির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হলেও, এটি অটো ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় যন্ত্র চালানো এবং তাপ উৎপাদনের কাজেও এলপিজি ব্যবহৃত হয়।
এলপিজি একটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম ধোঁয়া তৈরি করে এবং দূষণ কমায়। সহজে পরিবহনযোগ্য হওয়া এবং দ্রুত জ্বলে বেশি তাপ উৎপন্ন করার ক্ষমতার জন্যই এটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
