নির্বাচনী মরশুমে ছাপাখানাগুলোতে পুরোদমে কাজ চলছে। ছাপাখানায় বিপুল পরিমাণ কাজের অর্ডার এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজের অর্ডার আশায় মুখে হাসি ফিরে ছিল ছাপাখানার কর্মী থেকে মালিক পক্ষের। কিন্তু সেই অর্ডার অনুযায়ী ফ্লেক্স ব্যানার তৈরি করতে গিয়েই কার্যত ঘুম উড়ছে বিভিন্ন প্রিন্টিং সংস্থার মালিকের চোখে। কারণ বিপুল সংখ্যক অর্ডার এলেও প্রভূত লোকসানের মুখোমুখি তাঁরা। আর এই লোকসানের একমাত্র কারণ ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা এই যুদ্ধের কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে ছাপাখানার কাঁচামালের দাম। ফলে একদামে অর্ডার নিলেও, পরের দিন কাঁচামালের দাম বাড়ায় কাজ করতে গিয়ে অসুবিধার মুখে ছাপাখানাগুলি।
advertisement
ফ্লেক্স তৈরি হয় পেট্রোলিয়াম জাত উপকরণ দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের যোগান কমে যাওয়ায় এই সব উপকরণের যোগানে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ফ্লেক্সের। ভোটের বাজারে যার প্রভাব পড়েছে। ফ্লেক্স প্রিন্টিং সংস্থার মালিকেরা জানাচ্ছেন ১৮০ টাকার ফ্লেক্স ৩০০ টাকার উপর হয়ে গেছে। আগে যে দামে ফ্লেক্স কেনা হত, বর্তমানে তার তুলনায় প্রতি স্কয়ার ফিটে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ বিষয়ে তমলুকের এক ফ্লেক্স সংস্থার মালিক নীলুপ্রসাদ পাড়ই বলেন, “তিনটি জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভোটের কাজ আগে থেকেই নেওয়া ছিল। ফলে হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কারণে এখন বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বিভিন্ন ফ্লেক্স প্রিন্টিং সংস্থার মালিকদের কাছ থেকে জানা যায়। এক সপ্তাহে তিনবার ফ্লেক্সের দাম বেড়েছে। শুধু ফ্লেক্সই নয়, কালির দামও বেড়েছে—যা আগে ছিল ৭৫০ টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০০ টাকায়। হোলসেলাররা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণেই এই দাম বেড়েছে। কিন্তু ভোটের আগে যে কাজগুলো নেওয়া হয়েছে, সেই কাজের জন্য বাড়তি দাম নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। ভোটের কাজ বেশি পাওয়ায় যতটা আনন্দ ছিল, হঠাৎ ফ্লেক্সের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা এখন উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। ভোটের মরশুমে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে ব্যবসার উপর এবং এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।





