নয়াদিল্লি: সম্প্রতি ২০০০ টাকার নোট বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। আর সেই নোট বদল করার একটা সীমা বেঁধে দিয়েছে আরবিআই। সেই কারণে নোট জমা করানোর উপর জোর দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক বা এসবিআই-এর কাছে গোটা সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ ২০০০ টাকার নোট জমা পড়েছে। এমনটাই জানিয়েছে তারা।
advertisement
এসবিআই-এর তরফে জানানো হয়েছে যে, ২০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণার পরেই তাদের কাছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ টাকার নোট জমা পড়েছে। সেখানে ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকরা কেবলমাত্র ৩০০০ কোটি টাকা মূল্যের নোট বিনিময় করেছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এই অনুমান বর্তমানে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। পরবর্তী কালে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তা বদলানোও হতে পারে।
আরও পড়ুন- কেমন কাটবে জুন মাসটা? বছরের ষষ্ঠ মাসে কী কী চমক অপেক্ষা করে রয়েছে? যা বলছে সংখ্যাতত্ত্ব
মানিকন্ট্রোলের এক প্রতিবেদনে এই কথা জানিয়েছেন এসবিআই চেয়ারম্যান দীনেশ কুমার খারা। গান্ধিনগরে এসবিআই ফরেন কারেন্সি বন্ড লিস্টিং অনুষ্ঠানের পরে খারা বলেছিলেন, “প্রায় ১৪০০০ কোটি টাকার ২০০০ টাকার নোট এই পর্যন্ত ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে। একই সময়ে এসবিআই-এর বিভিন্ন শাখা থেকে মাত্র ৩০০০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ টাকার নোট বদলানো হয়েছে।” তবে এখনও পর্যন্ত অন্য কোনও ব্যাঙ্ক জমা এবং বিনিময় করা ২০০০ টাকার নোট সংক্রান্ত হিসেবের তথ্য প্রকাশ করেনি। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্কে জমা পড়া নোটের অঙ্ক থেকে এটা স্পষ্ট যে, নোট জমা দেওয়ার প্রতি গ্রাহকদের ঝোঁক অত্যন্ত বেশি।
আরও পড়ুন– শনিদেব বক্রী হচ্ছেন ১৭ জুন, ভয়ঙ্কর দিন আসতে চলেছে এই কয়েক রাশির!
নোটগুলি জমা কিংবা পরিবর্তনের সময়সীমা:
২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আরবিআই আরও জানিয়েছিল যে, এই নোট আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত ব্যাঙ্কগুলিতে জমা এবং বিনিময় করা যেতে পারে। গত ২৩ মে, ২০২৩ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে নোট জমা কিংবা বিনিময়ের কাজ। এমনকী আরবিআই নির্দেশিকায় এ-ও বলা হয়েছে যে, ২০০০ টাকার নোট যে কোনও ব্যাঙ্কের যে কোনও শাখা থেকেই বদলানো যাবে। এক বারে মাত্র ১০টি নোট বদলানো হচ্ছে। তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকার নোট জমা করার কোনও সীমা নেই।
২০০০ টাকার নোটের প্রচলন:
২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে দেশে তৎকালীন ৫০০ টাকা এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় বাজারে আনা হয়েছিল ২০০০ টাকার নোট এবং ৫০০ টাকার নতুন নোট। এই সব নোট বন্ধের পরে যেন মুদ্রার কোনও ঘাটতি না হয়, সেই কারণেই মূলত বাজারে ২০০০ টাকার নোট আনা হয়েছিল। আজ সেই চাহিদা পূরণ হয়েছে। ফলে তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও বহু দিন ধরেই ২০০০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছিল না। এমনকী, এটিএম থেকেও ২০০০ টাকার নোট আর বেরোচ্ছিল না।
