GK: অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আর ভারত থেকে দূরত্বও মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ! ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের সবথেকে সস্তা এই দেশ থেকে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
Trending: এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। শুধু তা-ই নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ, যার কোনও উপকূলরেখা নেই।
আজকাল পর্যটকদের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের ঝোঁক ক্রমেই বাড়ছে। তবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নানা কিছু বিষয়ের পাশাপাশি খরচের দিকটাও মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করতে হয়। তবে আজকের প্রতিবেদনে আমরা এমন একটি দেশের সন্ধান দেব, যেখানে ঘুরতে গেলে পকেটের উপর খুব একটা চাপও পড়বে না। আর আমাদের দেশ থেকে এর দূরত্বও তেমন বেশি নয়। এখানে বলা হচ্ছে লাওস-এর কথা। আনুষ্ঠানিক ভাবে লাওস আসলে লাও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। শুধু তা-ই নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ, যার কোনও উপকূলরেখা নেই। লাওসের উত্তরে রয়েছে চিন, পূর্বে ভিয়েতনাম, দক্ষিণে কম্বোডিয়া, পশ্চিমে থাইল্যান্ড এবং উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে মায়ানমার (বার্মা)।
advertisement
ভৌগোলিক দিক: লাওসের আয়তন প্রায় ২,৩৬,৮০০ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে বিস্তৃত পাহাড়া এবং জঙ্গল। আর এই দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পাহাড় এবং বনভূমিতে ভরা। এছাড়া দেশটির পশ্চিম সীমান্ত থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী, সেখানে রয়েছে মেকং নদী। এটি দেশের প্রধান জলপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং পরিবহণের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। লাওসের জলবায়ুর বেশির ভাগটাই গ্রীষ্মমন্ডলীয় বর্ষা। এখানে মে মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। আর ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সাধারণত শুষ্ক মরশুম দেখা যায়।
advertisement
জনসংখ্যা: ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে লাওসের আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল ৭.৯৭ মিলিয়ন। বিশ্বের মধ্যে এর অবস্থান ১০৩-তম। জনসংখ্যার ঘনত্ব এখানে খুবই কম (প্রায় ৩৫ জন/বর্গ কিমি)। ফলে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ লাও ল্যুম (নিম্নভূমি লাও), ২২ শতাংশ লাও থুওং (উচ্চভূমি লাও), ৯ শতাংশ লাও স্যুং (পার্বত্য, হমং, ইয়াও) এবং বাকিরা ভিয়েতনামিজ/চিনা। এখানকার জনসংখ্যার মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ সম্প্রদায়, যার গড় বয়স ২৫.৩ বছর।
advertisement
সংস্কৃতি: লাও সংস্কৃতি মূলত বৌদ্ধধর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি। থেরাবড়া বৌদ্ধধর্ম হল প্রধান ধর্ম। দেশ জুড়ে হাজার হাজার বৌদ্ধ মন্দির (ওয়াট) রয়েছে, বিশেষ করে লুয়াং প্রবাং (একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট)। এখানকার মানুষ শান্তিপূর্ণ এবং সরল জীবনযাপন করে। উৎসবের মধ্যে রয়েছে বৈশাখ (পেই মাই - লাও নববর্ষ), বৌদ্ধ উৎসব এবং নৌকা দৌড়ের উৎসব। সরকারি ভাষা লাও, যা থাই ভাষার অনুরূপ।
advertisement
অর্থনীতি: লাওস একটি উন্নয়নশীল দেশ। প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হল কৃষি। মূলত জনসংখ্যার ৮০ শতাংশই কৃষির উপর নির্ভরশীল। প্রধান ফসল হল - ধান, ভুট্টা, কফি, তামাক, তুলো। এই দেশ প্রধানত জলবিদ্যুৎ রফতানি করে। লাওস মূলত চিন ও থাইল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এখানে পর্যটন শিল্পও দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০-৬০ লক্ষ পর্যটক (চিন থেকে ২০ লক্ষ) আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিন-লাওস রেলপথের মাধ্যমে যোগাযোগ উন্নত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে জিডিপি (পিপিপি) ৭৮.৮৫ বিলিয়ন ডলার, নামমাত্র জিডিপি ১৬.৩২ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় কম, তবে বৃদ্ধির হার ভালই।
advertisement
advertisement
রাজধানী: মেকং নদীর তীরে অবস্থিত ভিয়েনতিয়েন। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্তিপূর্ণ সংস্কৃতি, বৌদ্ধ মন্দির, মেকং নদী এবং লুয়াং প্রাবাংয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির জন্যই বিশ্ব জুড়ে পর্যটকরা এখানে ভিড় করেন। ভবিষ্যতে রেলওয়ে, জলবিদ্যুৎ এবং পর্যটনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা। সবথেকে বড় কথা হল, আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (অক্টোবর ২০২৫ এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আপডেট) অনুযায়ী, লাওস বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা দেশ।







