Harish Rana News : ‘তাঁর প্রয়াণ দুঃখজনক, কিন্তু...’, হরিশ রানার মৃত্যুতে আবাসনের বাসিন্দারা কী বলছেন জেনে নিন
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
Harish Rana News : গত ১৩ বছর ধরে কোমায় ছিলেন তিনি। তাঁর ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, দেশে প্রথম বার। তার পরেই গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে তাঁকে দিল্লির এইমসের বিআর আম্বেডকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালের উপশমকারী বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে ৩১ বছরের যুবককে বাঁচিয়ে রাখার কৃত্রিম ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
Reporter: Shivam Gautam: দিল্লি সংলগ্ন গাজিয়াবাদের রাজনগর এক্সটেনশনে রাজ আম্পায়ার সোসাইটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। হরিশ রানা মঙ্গলবার বিকেল ৪টের দিকে দিল্লির এইমস-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৩ বছর আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন এবং যান্ত্রিক সহায়তায় বেঁচে ছিলেন। ছেলের ক্রমাগত কষ্ট দেখে বাবা অশোক রানা সুপ্রিম কোর্টে ইচ্ছামৃত্যুর জন্য একটি আবেদন করেন, যা মঞ্জুর হয়।
advertisement
advertisement
সোসাইটির পরিবেশটা কেমন? রাজ এম্পায়ার সোসাইটির বাসিন্দা তেজস লোকাল 18-কে বলেন, ‘‘আমরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এই খবরটা জানতে পেরেছি। আমরা এখনও পরিবারটির সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। খবরটা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো সোসাইটি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। সমবেদনা জানাতে লোকজন তাঁর বাড়িতে আসছেন। তবে, পরিবারটি সেখানে উপস্থিত নেই। কিছু আত্মীয় ফ্ল্যাটে আছেন। আমি অশোক রানার সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করেছি; তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন।’’
advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘‘গত ১৩ বছর ধরে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন তা দেখলে এটা স্পষ্ট যে একজন বাবা তার ছেলের জন্য কতটা করতে পারেন। এমন কোনও ডাক্তার, হাসপাতাল, বৈদ্য বা আয়ুর্বেদ ছিল না যেখানে তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে যাননি। কিন্তু যখন তিনি প্রতিদিন তাঁর ছেলেকে যন্ত্রণায় ভুগতে, যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাস নিতে দেখলেন, তখন তিনি অবশেষে ইচ্ছামৃত্যুর জন্য অনুরোধ করেন। একজন বাবার জন্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত। হরিশ গত ১৩ বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন এবং প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। আজ তাঁর চলে যাওয়াটা দুঃখজনক, কিন্তু এটি তাঁর যন্ত্রণা থেকে মুক্তিও বটে।’’
advertisement
সোসাইটির বাসিন্দা দীপাংশু মিত্তল বলেন, ‘‘আমরা খবর পেয়েছি যে মঙ্গলবার বিকেল ৪টের দিকে এইমস-এ হরিশ রানা মারা গিয়েছেন। পরিবার আমাদের জানিয়েছে যে শেষকৃত্য গাজিয়াবাদে সম্পন্ন হবে এবং সন্ধ্যার মধ্যে মরদেহ এখানে আনা হবে। আমরা হরিশ রানার বাবা অশোক রানার সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে খরচ মেটাতে তিনি স্টেডিয়ামে স্যান্ডউইচ এবং ছোলা বিক্রি করতেন, কিন্তু কখনও সাহায্যের জন্য ভিক্ষা করেননি। হরিশ রানার চিকিৎসায় তাঁর মাসে প্রায় ৩০,০০০ টাকা খরচ হত, তবুও তিনি কখনও হাল ছাড়েননি। এটি শুধু একটি সংগ্রাম নয়, একজন বাবার ভালবাসার উদাহরণ। আজ সোসাইটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লোকজন অনবরত তাঁদের বাড়িতে আসছেন। পরিবারটি বর্তমানে এইমস-এ, তবে আত্মীয়স্বজন এসে গিয়েছেন। শোক অপরিসীম হলেও, পরিবারটি এই দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে কিছুটা স্বস্তিও পেয়েছে।’’









