Donald Trump's Blunder: ট্রাম্প নিজেই ‘খাল কেটে কুমির’ এনেছেন, হরমুজ নিয়ে চূড়ান্ত ফ্লপ শো, না বুঝে যুদ্ধে ঝাঁপানোর দায় চাপল তাঁরই কাঁধে
- Published by:Debalina Datta
Last Updated:
Donald Trump's Blunder: প্যানেটা বলেছেন যে, যতদিন ইরান হরমুজ প্রণালীকে চাপ প্রয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করতে থাকবে, ততদিন ট্রাম্পের পক্ষে যুদ্ধবিরতি অর্জন করা কার্যত অসম্ভব হবে।
কলকাতা: নিজেই নিজের মৃত্যুফাঁদ তৈরি করেছেন কি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ চারদিক থেকে সমালোচনার ঝড়ের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প এখন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দু দিক থেকেই চাপের সম্মুখীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ও সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ট্রাম্প নিজেই তার এই কঠিন পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা প্যানেটা বলেছেন, ট্রাম্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন , তিনি যুদ্ধ আরও বাড়াবেন, নাকি পিছু হটে জয় হয়েছে বলে নিজেই দাবি করবেন। কিন্তু প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনও পথই সহজ নয়। তাঁর মতে, ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেন, তবে তা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আর তিনি যদি পিছু হটেন, তবে সারা বিশ্ব এটিকে আমেরিকার একটি ব্যর্থতা হিসেবে দেখবে।
advertisement
ট্রাম্প কি সঠিক প্রস্তুতি ছাড়াই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন?প্যানেটা কঠোরভাবে বলেন, ‘এটা কোনও রকেট সায়েন্স নয় যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গেলে হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন হয় এই পরিস্থিতিতে উপেক্ষা করেছে, অথবা ধরে নিয়েছিল যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা প্রমাণ করে দিচ্ছে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো৷ ইরান প্রতিশোধস্বরূপ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে রেখেছে- যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাচ্ছে৷
advertisement
ট্রাম্পের জুয়া খেলা হিতে বিপরীত করেছে, ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করেন, এই আশায় যে এটি একটি চূড়ান্ত আক্রমণ হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-র মৃত্যুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে শুরুতেই একটি সুবিধা দিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুদ্ধ শেষ হয়নি। প্যানেটার মতে, ইরানে এখন আরও শক্তিশালী ও কঠোর নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে, যা আগের চেয়েও বেশি আগ্রাসী। তিনি বলেন, “পুরনো নেতৃত্বকে অপসারণের পর যে নতুন নেতৃত্ব এসেছে, তা আরও বেশি কঠোর। এই কৌশলটি হিতে বিপরীত হয়েছে।”
advertisement
ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও সমস্যায় আছেন।প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধের জন্য সমর্থন জোগাড় করতেও ট্রাম্পকে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে এবং তাঁর সমর্থকদের মধ্যে বিভেদের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে বারবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
advertisement
হরমুজ সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠলপ্যানেটা বলেছেন যে, যতদিন ইরান হরমুজ প্রণালীকে চাপ প্রয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করতে থাকবে, ততদিন ট্রাম্পের পক্ষে যুদ্ধবিরতি অর্জন করা কার্যত অসম্ভব হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই পথটি খোলার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা একটি দীর্ঘতর ও আরও বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
advertisement
বন্ধুদের থেকে দূরত্ব মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে।প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন যে, ট্রাম্প তাঁর বন্ধুদের উপেক্ষা করেছেন এবং এখন তিনি তাঁর মূল্য চোকাচ্ছেন। তিনি বলেন, "আপনি যদি যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন, তবে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।" কিন্তু ট্রাম্প জোটগুলোকে উপেক্ষা করেছেন এবং এখন তাঁকে সেই ন্যাটোরই সাহায্য চাইতে হচ্ছে, যাকে তিনি আগে 'কাগুজে বাঘ' বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।









