Anil Kapoor: এক ছবিই রাতারাতি বানিয়েছিল সুপারস্টার...! তবে মাধুরীকে নিয়ে মোটেই খুশি ছিলেন না অনিল কাপুর, কেন জানেন?
- Published by:Riya Das
Last Updated:
Anil Kapoor: ৩৪ বছর আগে একটি বলিউড চলচ্চিত্র বক্স অফিসে এমন সাড়া ফেলেছিল যা এমনকি সবচেয়ে বড় সুপারস্টারদেরও ঘাম ঝরিয়ে দিয়েছিল। ১৯৯২ সালের ব্লকবাস্টার 'বেটা'-তে অনিল কাপুরের শক্তিশালী অভিনয় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ঝড় তুলেছিল। অমিতাভ বচ্চনের 'খুদা গাওয়াহ' এবং শাহরুখ খানের 'দিওয়ানা'-র মতো বড় চলচ্চিত্রগুলো মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও, 'বেটা' সেগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়ে সেই বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের খেতাব অর্জন করে।
১৯৯২ সালটি ছিল বলিউডের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী বছর, যা বাণিজ্য বিশ্লেষকরা আজও বিস্ময়ের সঙ্গে স্মরণ করেন। সেই সময় মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের 'খুদা গাওয়াহ' ছবির জাদু তখনও অটুট ছিল,আর শাহরুখ খান তার প্রথম ছবি নিয়ে প্রেক্ষাগৃহের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে অনিল কাপুর সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন।
advertisement
advertisement
ইন্দ্র কুমার পরিচালিত 'বেটা' এমন একটি চলচ্চিত্র ছিল যা বলিউডের চিরাচরিত মা-ছেলের সম্পর্ককে এক নতুন ও অকপট পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। অনিল কাপুর 'রাজু' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যে তার সৎমা (অরুণা ইরানি)-র প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত। চলচ্চিত্রে কলাকুশলীদের চমৎকার অভিনয়, নিষ্পাপ অথচ দৃঢ়চেতা ছেলের চরিত্রে অনিল কাপুরের অভিনয় দর্শকদের চোখে জল এনেছিল।
advertisement
১৯৯২ সালের বক্স অফিসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। একদিকে ছিল মুকুল আনন্দের অনবদ্য ছবি 'খুদা গাওয়াহ', যেখানে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও শ্রীদেবী এবং গল্পটি আফগানিস্তানের উপত্যকার প্রেক্ষাপটে নির্মিত। অন্যদিকে ছিল 'দিওয়ানা', যা শাহরুখ খানকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু যখন 'বেটা' মুক্তি পেল, তখন সব হিসাব-নিকাশ মুহূর্তে পাল্টে গেল। 'বেটা' ১৯৯২ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিতে পরিণত হয়, যা অমিতাভ বচ্চনের তারকাখ্যাতি এবং শাহরুখ খানের নতুন উন্মাদনা উভয়কেই ছাড়িয়ে এক নম্বর স্থান দখল করে নেয়। পরিবেশক এবং সিঙ্গেল-স্ক্রিন থিয়েটারগুলোর বাইরে ভিড়ই প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, সেই সময়ে অনিল কাপুরের ক্যারিশমা ছিল তুঙ্গে।
advertisement
অনিল কাপুরের সহ-অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতও তাঁর দাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ছবিটির 'ধক ধক করনে লাগা' গানটি দেশজুড়ে হিট হয়েছিল। অনিল ও মাধুরীর রসায়ন পর্দায় এমন উদ্দীপনা জাগিয়েছিল যে 'বেটা' শুধু একটি চলচ্চিত্রই নয়, একটি কাল্ট ছবিতে পরিণত হয়েছিল। 'সরস্বতী' চরিত্রে মাধুরীর শক্তিশালী অভিনয় এবং 'রাজু' চরিত্রে অনিলের নিষ্ঠা দর্শকদের বারবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে এনেছিল।
advertisement
চলচ্চিত্রটির সাফল্যের পেছনে অরুণা ইরানিরও একটি বড় অবদান রয়েছে। তিনি একজন স্নেহময়ী কিন্তু ধূর্ত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাকে দর্শকরা ঘৃণা করতে বাধ্য ছিল। অনিল কাপুর ও অরুণা ইরানির মধ্যকার সংঘাতপূর্ণ দৃশ্যগুলো ছবিতে এমন এক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল যা সাধারণত শুধু অ্যাকশন ছবিতেই দেখা যায়। ক্লাইম্যাক্সে যখন অনিল কাপুর তার মায়ের আসল পরিচয় জানতে পেরে গর্জন করে ওঠেন, তখন প্রেক্ষাগৃহগুলো করতালি ও শিসধ্বনিতে ফেটে পড়ে।
advertisement
'বেটা' শুধু অর্থ উপার্জনই করেনি, সমালোচকদের মনও জয় করেছিল। সেই বছর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে অনিল কাপুর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং মাধুরী দীক্ষিত শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। এটি প্রমাণ করেছিল যে অনিল কাপুর 'মশাল' বা 'তেজাব'-এর মতো শুধু একজন অ্যাকশন হিরো নন, বরং একজন পোড়খাওয়া শিল্পী, যিনি পর্দায় কঠিন আবেগ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম।







