LPG Gas Booking: দেশ জুড়ে সিলিন্ডারের আকাল চরমে ! উদ্বিগ্ন প্রত্যেকেই, পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে? যা জানাচ্ছে কেন্দ্র…
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
LPG Gas Booking: যখনই মনে হয় যে, এলপিজি সঙ্কট ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক তখনই আসতে থাকে একের পর এক হামলার খবর। ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের মধ্যে ধ্বংস করা হচ্ছে গ্যাস ক্ষেত্রগুলি। শুধু তা-ই নয়, কাতারে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা হয়েছে। তারপর থেকে পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন হয়ে উঠেছে।
ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের জেরে এলপিজি নিয়ে আশঙ্কার মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ভারতে পড়ছে এর বড় প্রভাব। প্রায় প্রতিদিন সকালে উঠলেই এলপিজি সরবরাহ নিয়ে খবরের উপর চোখ রাখছেন আপামর ভারতবাসী। যখনই মনে হয় যে, এলপিজি সঙ্কট ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক তখনই আসতে থাকে একের পর এক হামলার খবর। ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের মধ্যে ধ্বংস করা হচ্ছে গ্যাস ক্ষেত্রগুলি। শুধু তা-ই নয়, কাতারে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা হয়েছে। তারপর থেকে পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন হয়ে উঠেছে। (Photo: AP)
advertisement
কাতারের তরফে জানানো হয়েছে যে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্রগুলি মেরামত ও পুনরুদ্ধার করতে প্রায় ৫ বছর সময় লাগবে। ফলে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এলপিজি গ্যাসের ঘাটতি চরমে পৌঁছতে চলেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং হায়দরাবাদ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহরে রান্নার গ্যাস বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এদিকে গ্যাস বুকিংও প্রায় হচ্ছে না বললেই চলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে, বাড়ি বাড়ি রান্নার গ্যাস সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। (Photo: AP)
advertisement
কাতার আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এটি শুধু ভারতের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেখানে ২০ বছর ধরে এলপিজি গ্যাস উৎপাদন চলছে। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি এলপিজি গ্যাস সেই কাতার থেকেই আসে। ফলে সেখানে কোনও সমস্যা দেখা দিলে ভারতীয় গৃহস্থালিতে গ্যাস আর জ্বলবে না বললেই চলে। ইতিমধ্যেই এর প্রমাণও মিলেছে। হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলিও সাময়িক ভাবে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। কারণ তাঁরা একেবারেই রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না। এরপর রয়েছে গৃহস্থালি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাড়ি বাড়ি গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, “চিন্তার কোনও কারণ নেই। গ্যাস সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না।” কিন্তু পরিস্থিতি বাস্তবে তেমনটা একেবারেই নয়। কারণ বাড়ির জন্য গ্যাস বুকিং করার এক সপ্তাহ পরেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হল চরম ঘাটতি। (Photo: AP)
advertisement
গোটা দেশের একাধিক শহরে কার্যত এই এক চিত্রই দেখা যাচ্ছে। যেমন - গুজরাতের সুরাতের কথাই বলা যাক। সেখানে উধনা রেলস্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় দেখা গিয়েছে। এলপিজি-র অভাবে কাজের জায়গা ছেড়ে নিজেদের গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। হাতে কাজ থাকা সত্ত্বেও রান্নার গ্যাসের অভাবে হাঁড়ি চাপাতে পারছেন না। (Photo: AP)
advertisement
গ্যাসের আকালের আঁচ গিয়ে পৌঁছেছে পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশেও। প্রভাব পড়েছে সেখানকার বিধানসভাতেও। কারণ বাজেট অধিবেশন চলছে সেখানে। ফলে বিধায়ক, আধিকারিক এবং কর্মীদের জন্য কাঠের জ্বালানির মাধ্যমেই খাবার তৈরি করছে হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। এমনিতে বিধানসভার খাবার আসে শিমলার হোটেল হলিডে হোম থেকে। শুক্রবার বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে কাঠের জ্বালানিতে বিশাল বাসনকোসন চাপিয়ে প্রায় ৫০০-৬০০ জনের রান্না হয়েছে। তারপর সেই খাবার গরম প্যাকেটে ভরে বিধানসভা কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। (Photo: AP)
advertisement
advertisement
এদিকে এলিপিজি আকালের প্রভাব পড়েছে কলকাতাতেও। বিগত দশ দিনে এখানে অটো এলপিজি-র বিক্রি পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছে। আবার বেশ কিছু অটোরিকশা রুটে তো কাটছাঁট পর্যন্ত করতে হচ্ছে। যার জেরে তেল বিপণন সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের সন্দেহ, সরবরাহ সঙ্কটে জর্জরিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে অবৈধ ভাবে জ্বালানি পাচার করা হচ্ছে। (Photo: AP)
advertisement
যদি আমরা বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই সমস্যাটা বড় আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। সেখানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সেগুলির মধ্যে ৬টি জাহাজে এলপিজি গ্যাস রয়েছে। যদি সেগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে ভারতে গ্যাসের ঘাটতি অনেকাংশে কমানো যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইরান ভারতের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলার মতো জায়গাতেই নেই। (Photo: AP)
advertisement
ইজরায়েল ও আমেরিকা সেই দেশটিকে বারংবার আক্রমণ করছে এবং এতে সে দেশের শান্তি বিঘ্নিত করছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেই দেশটিও বিভিন্ন তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলিতে হামলা চালাচ্ছে। ফলে সেখানে চরম উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলেও স্বাভাবিক ভাবেই সেখান থেকে কোনও জবাব আসছে না। সেই কারণেই পরিস্থিতিও এগোচ্ছে না। আর এই কারণেই আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা আরও বড় আকার ধারণ করতে চলেছে। (Photo: AP)
advertisement
হরমুজ প্রণালীতে জটের পাশাপাশি এখন নতুন সমস্যা হল - তৈল ক্ষেত্র এবং গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্রগুলির উপর হামলা। আর সেখানেই প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদিত হয়। যদি এই সমস্ত ক্ষেত্রে হামলা হয়, তাহলে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বিশ্বে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাবে। বিশেষ করে আমাদের ভারত মূলত গালফের দেশগুলির মধ্যে কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলি থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে। এখন যদি সেই গ্যাস উৎপাদিত না হয়, তাহলে ভারতে আর গ্যাস আসার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। এটি একটি উদ্বেগের বিষয়। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। আর তাঁর এই কথার পরই বোঝা যাচ্ছে যে, গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়তে চলেছে। (Photo: AP)
advertisement
সম্প্রতি শিবালিক ও নন্দা দেবী নামের দুটি জাহাজ এলপিজি গ্যাস নিয়ে ভারতে এসেছে। কিন্তু তাতেও গ্যাসের আকাল কাটছে না। কারণ যে গ্যাস এসেছিল, তা পর্যাপ্ত ছিল না। মাত্র ৩ দিনেই তা শেষ হয়ে গেছে। হোটেল ও হাসপাতালগুলিতে তা সরবরাহ করা হয়েছিল। এখন আবার গ্যাস নেই। নতুন কোনও জাহাজ আসছে না। ইরান কবে অনুমতি দেবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু অন্য দেশ থেকে গ্যাস আসবে কিনা, সেই সম্ভাবনাও খুবই কম। কাতারই ভারতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করে। এখন সেখানে গ্যাস উৎপাদনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই সব কিছু মিলিয়ে গোটা দেশে গ্যাসের ঘাটতি বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। (Photo: AP)
advertisement
আরও একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে যে, রান্নার গ্যাসের দাম শীঘ্রই আরও বাড়তে চলেছে। বাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যে ৬০ টাকা বেড়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে। কারণ যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। তৈল ক্ষেত্রগুলিতে হামলা হচ্ছে। ফলে তেল উৎপাদন কমে যাবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দিন দিন বাড়ছে। তার সঙ্গে ভারতে আসা তেল ও গ্যাসের দামও বাড়তে পারে। তখন সেই বোঝাটা কার উপর চাপাবে? সেই দেশবাসীর উপরেই। (Photo: AP)
advertisement
ভারতের এলপিজি গ্যাস আমদানির ৯০ শতাংশই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। ভারতীয় বিদেশ সচিব রণধীর জয়সওয়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” এটি ভারতের পক্ষ থেকে বিদেশি রাষ্ট্রগুলিকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় যুদ্ধ প্রসঙ্গে ভারত তেমন জোরালো আওয়াজ তোলেনি। এমনিতে ভারত বছরে ৩৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করা হয়। এখন চালান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশীয় শোধনাগারগুলি উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু চাহিদা মেটাতে তা যথেষ্ট নয়। সরকার গৃহস্থালিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাণিজ্যিক সরবরাহ ২০ শতাংশ কমিয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি। (Photo: AP)
advertisement
হায়দরাবাদের রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলি ইতিমধ্যেই মেন্যুতে কাটছাঁট করেছে। কিছু কিছু মেন্যু বন্ধও হয়ে গিয়েছে। ফলে সেখানে কর্মরতদের চাকরি সাময়িক ভাবে চলে গিয়েছে। তাঁদের পারিশ্রমিক ও আয়ও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হোটেল ইন্ডাস্ট্রিও বিধ্বস্ত হয়েছে। বাড়িতেও গ্যাসের ঘাটতি থাকায় কিছু মানুষ অতিরিক্ত ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে কালোবাজারি করে সিলিন্ডার কিনছেন। যদিও এটি বেআইনি। সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। হায়দরাবাদের একজন রেস্তোরাঁর মালিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “পরিস্থিতি ভয়াবহ। এটাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চিত্র।” (Photo: AP)
advertisement
কেন্দ্রীয় সরকার জনগণকে কী জানাল? কেন্দ্রীয় সরকার জনগণকে এই বার্তা দিয়েছে যে, “চিন্তা করার দরকার নেই। অকারণে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করারও দরকার নেই। সম্ভব হলে পাইপড গ্যাস (পিএনজি) ব্যবহার করতে হবে।” পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জনগণকে এই বার্তা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, “কালোবাজারি রুখতে অভিযান চালানো হচ্ছে।” (Photo: AP)








