সকাল হতেই মাধ্যমিক! শেষ রাতে চলে গেলেন বাবা! শোকের পাহাড় ডিঙিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে মেয়ে
- Reported by:Ranjan Chanda
- local18
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
Success Story: মধুমিতার এই লড়াই শুধু এক পরীক্ষার্থীর গল্প নয়। এটি এক মেয়ের অটুট মানসিক শক্তি, দায়িত্ববোধ আর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। শোকের অন্ধকারেও যে আলো জ্বালান যায়—মধুমিতা কর আজ তারই জীবন্ত প্রমাণ।
সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: রাতের নিস্তব্ধতায় নিভে গিয়েছিল সংসারের একমাত্র ভরসার আলো। ভোর হতেই সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা—শুধু মাধ্যমিক নয়, জীবনেরই পরীক্ষা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের সারতা হাই স্কুলের ছাত্রী মধুমিতা কর সেই ভোরে কাঁধে তুলে নিয়েছিল শোকের পাহাড়, চোখে জল নিয়েই পা বাড়িয়েছিল পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে। একদিকে পিতৃবিয়োগে চোখে জল, অন্যদিকে মনে সাহস। বাবার মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে দু’দিন পরীক্ষা দিল এই মেয়ে।
দীর্ঘদিন কিডনি ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাঁর বাবা। চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। দিদিদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে রয়েছে শুধু মা আর এই মেয়েটি। বাবার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু থমকে যাওয়ার কথা। কিন্তু মধুমিতা থামেনি। বাবার মুখাগ্নি দেওয়ার আগেই, শুধু শেষবারের মত তাঁর মুখটা দেখে, মনে গেঁথে নেওয়া বাবার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরেই সে চলে আসে প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষা দিতে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় দিন ইংরেজি পরীক্ষাও দেয় সে।
advertisement
advertisement
বাবা সবসময় বলতেন—“মানুষের মত মানুষ হতে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।” সেই কথাই যেন সেই মুহূর্তে মধুমিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
advertisement
দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বার্থ সাধক শিক্ষা সদনে বসে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার সময় চোখের জল ফেলেনি সে, ফেলেনি দুর্বলতার কোনও ছাপ। কেবল মনে মনে কথা দিয়েছে—ভেঙে পড়বে না।
তার এই দৃঢ়তা নজর এড়ায়নি পরীক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষকদের। খবর পৌঁছায় দশগ্রাম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক যুগল প্রধানের কাছেও। তিনি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মধুমিতার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। জানান, ভবিষ্যতে মধুমিতা যদি এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়, তাহলে তার পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া—সব দায়িত্ব বিদ্যালয় নেবে। চরম অভাবের সংসারে বড় হওয়া মধুমিতা কখনও টিউশন পড়েনি। স্কুলের পড়াশোনাই তার একমাত্র সম্বল। তবুও তার চোখে রয়েছে স্বপ্ন, আর মনে দৃঢ় বিশ্বাস। সে জানে, পড়াশোনাই তার মুক্তির পথ।
advertisement
মধুমিতার এই লড়াই শুধু এক পরীক্ষার্থীর গল্প নয়। এটি এক মেয়ের অটুট মানসিক শক্তি, দায়িত্ববোধ আর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। শোকের অন্ধকারেও যে আলো জ্বালান যায়—মধুমিতা কর আজ তারই জীবন্ত প্রমাণ।
Location :
Paschim Medinipur,West Bengal
First Published :
Feb 03, 2026 8:58 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
সকাল হতেই মাধ্যমিক! শেষ রাতে চলে গেলেন বাবা! শোকের পাহাড় ডিঙিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে মেয়ে










