East Medinipur News: অনাথ আশ্রমে মানুষ...আর এখন ডাক এসেছে আমেরিকা থেকে! সেই সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে লড়াই শুরু কৃতী সুভাষের
- Reported by:Madan Maity
- local18
- Published by:Satabdi Adhikary
Last Updated:
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভূপতিনগরের পাঁউসি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমে ঢুকলেই চোখে পড়বে সুভাষকে। অন্য কোনও দিকে তার নজর নেই। চোখ সব সময় ল্যাপটপের স্ক্রিনে। সামনে ছড়িয়ে থাকে রোবট তৈরির নানা সরঞ্জাম। কোথাও আলো শনাক্ত করার সেন্সর। কোথাও শব্দ ধরার যন্ত্র।
ভগবানপুর, মদন মাইতি: সাড়ে তিন বছর বয়সে অন্যের হাত ধরে অনাথ আশ্রমে ঠাঁই হয়েছিল সুভাষ বিশ্বকর্মার। আজ, সেই পথশিশুই বানাচ্ছে রোবট। অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া সুভাষের সবচেয়ে পছন্দের বিষয় রোবোটিক্স। পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকার সেন্সর, সার্কিট, ল্যাপটপ ও নানা যন্ত্র আজ তার হাতের নাগালে। শুধু নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম আর দক্ষতার জোরেই এই সব অর্জন করেছে সে। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রোবোটিক্স বিষয়ে সর্বভারতীয় এক প্রতিযোগিতায় দিল্লিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে তার তৈরি রোবট। এবার সেই তরুণের ডাক এসেছে আমেরিকায় এক আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভূপতিনগরের পাঁউসি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমে ঢুকলেই চোখে পড়বে সুভাষকে। অন্য কোনও দিকে তার নজর নেই। চোখ সব সময় ল্যাপটপের স্ক্রিনে। সামনে ছড়িয়ে থাকে রোবট তৈরির নানা সরঞ্জাম। কোথাও আলো শনাক্ত করার সেন্সর। কোথাও শব্দ ধরার যন্ত্র। আবার কোথাও রঙ চিনতে পারার সেন্সর। এত দামী যন্ত্রপাতি অনাথ আশ্রমে কীভাবে এল, তা জানলে বিস্মিত হতে হয়। আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণ জানান, ২০১৯ সালে আশ্রমে এসেছিলেন প্রখ্যাত রোবট বিজ্ঞানী মলয় কুণ্ডু। তিনি শিশুদের রোবটের কাজ দেখান। কিছু মডিউল দিয়ে যান। সেই দলে ছিল সুভাষও।
advertisement
advertisement
অনাথ শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিল সুভাষ। তার আগ্রহে মলয়বাবু আমেরিকায় চলে গেলেও প্রতি রবিবার রাতে ভিডিও কলে ক্লাস নিতেন। তাঁর ছেলে-মেয়েরাও পড়াতেন। ধীরে ধীরে বাড়ে সুভাষের আগ্রহ। তাঁরাই ল্যাপটপ সহ প্রায় ছয় লক্ষ টাকার রোবট তৈরির সরঞ্জাম পাঠান। শুধু সুভাষ নয়, আশ্রমের আরও অনেক পড়ুয়া রোবোটিক্স শিখেছে। নানা ধরনের রোবট বানাচ্ছে তারা। সুভাষ তৈরি করেছে ভয়েস কন্ট্রোল রোবটিক গাড়ি। বানিয়েছে চালকহীন গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তৈরি করেছে সিঁড়ি ভাঙতে পারা ও নিজেকে ব্যালেন্স করতে সক্ষম রোবটও।
advertisement
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে রেল নেটওয়ার্ক দিয়ে ঘিরে ফেলছে ভারত! আর দেরি নেই, আসছে নাগাল্যান্ডের কোহিমা রেল
সুভাষ জানায়, তার বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। বাবা-মায়ের কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ে। তবে ছোটবেলার ভাইবোনদের কথা মনে নেই। এই আশ্রমই তার ঘর। সে নিজেই অন্যদের শেখায়। দশম শ্রেণির সিদ্ধান্ত দাস, সপ্তম শ্রেণির সুপর্ণা দাস ও মধুরিমা মাজিও রোবট নিয়ে কাজ করছে। সুভাষ বলে, ওরাই তার হেল্পিং হ্যান্ড। মার্চে তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই সময়ই আমেরিকা যাওয়ার কথা। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী? সুভাষের কথায়, রোবোটিক্স নিয়েই পড়াশোনা করতে চায় সে। মানুষের সমতুল্য রোবট বানাতে চায় সে।
Location :
West Bengal
First Published :
Jan 24, 2026 2:08 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Medinipur News: অনাথ আশ্রমে মানুষ...আর এখন ডাক এসেছে আমেরিকা থেকে! সেই সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে লড়াই শুরু কৃতী সুভাষের








