‘ভারতে আয়োজিত হোক অলিম্পিক্স- ফিফা বিশ্বকাপ’ Sports Business Summit-র মঞ্চে স্বপ্ন দেখালেন নীতা আম্বানি

লন্ডনে আয়োজিত Sports Business Summit-এ সোমবার বক্তব্য রাখলেন Reliance Foundation Chairperson and International Olympic Committee (IOC)-এর সদস্য নীতা আম্বানি ৷

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Oct 09, 2019 03:11 PM IST
‘ভারতে আয়োজিত হোক অলিম্পিক্স- ফিফা বিশ্বকাপ’ Sports Business Summit-র মঞ্চে স্বপ্ন দেখালেন নীতা আম্বানি
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Oct 09, 2019 03:11 PM IST

#লন্ডন :লন্ডনে আয়োজিত Sports Business Summit-এ সোমবার বক্তব্য রাখলেন Reliance Foundation Chairperson and International Olympic Committee (IOC)-এর সদস্য নীতা আম্বানি ৷ তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উঠে এল 'Inspiring a Billion Dream: The India Opportunity-এর নানা দিক ৷ যার মধ্যে নীতা আম্বানি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করল খেলাধুলোয় মহিলাদের অংশগ্রহণের কথা ৷ খেলার মধ্যে দিয়ে নারীদের ইচ্ছে শক্তি, লড়াইয়ের গল্পও নীতা আম্বানি তুলে ধরলেন ৷

যখন ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডকে হারাল তখন ১৫ মিলিয়ন মানুষ টেলিভিশনে খেলা দেখেছিলেন আর ১৮০ মিলিয়ন মানুষ তা অনলাইনে দেখেছিলেন ৷ এটা শুধুমাত্র ভারতের হিসেব ৷ অন্যদিকে ভারত যে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছিল সেখানে ২২০ মিলিয়ন মানুষ খেলা দেখেছিল ৷ এবার ভাবুন ভারত যদি ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলত তাহলে যেমন কট্টর মোকাবিলা হত তেমনিই দর্শক সংখ্যা কোথায় পৌঁছত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ৷

এই দর্শক সংখ্যাটা শুধু ক্রিকেটেই নয় অলিম্পিক্স, ফিফা বিশ্বকাপ, ইপিএল সবক্ষেত্রেই ভারতে প্রচুর ৷ ৮০০ মিলিয়ন ভারতীয় ২০১৮ সালে স্পোর্টস চ্যানেল দেখেছেন টেলিভিশনে ৷ বন্ধুরা আমি যে ছবিটা তুলে ধরতে চাইছি সেটা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে এই দেশের খেলার মানচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে ৷ তাতে এটা পরিষ্কার নতুন ভারত অসম্ভব সম্ভবনার দেশ ৷ খেলা এখন অনেক ব্যবসা, অনেক পেশাদার কোচ, অনেক ফিজিও, টেক অন্তেপ্রেনর সংবাদমাধ্যম ,মার্চেন্টাইসকে দু‘হাত প্রসারিত করে স্বাগত জানাচ্ছে ৷  ভারতের এখন গণতন্ত্র, বৈচিত্র, উন্নয়ন এই সব শক্তিগুলির মিশেলে তৈরি আর সকলকে এই সব জিনিসের মিশ্রিত বিষয় অফার করছে ৷ এক যুগের মধ্যেই চিনকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হবে ভারত ৷ ভারত গর্বিত যে সে স্বাধীন, উন্মুক্ত সমাজ উপহার দেয় ৷ সেই দিন দূরে নয় যখন ভারত বিশ্বের তৃতীয় সর্ববৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে ৷ পাঁচ বছরের মধ্য জিডিপি গ্রোথের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার আশা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত ৷ অর্থনীতিকে পৌঁছেছে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার ইকনমিতে ৷

ক্রীড়াক্ষেত্রের বিশিষ্ট নেতৃত্বকে বলছি , এত অভূতপূর্ব সুযোগ ছেড়ে ভারত থেকে আপনারা দূরে থাকতে পারবেন ৷ উত্তরটা আবশ্যিক ভাবেই না ৷ আমি আমার বক্তব্যের একদম শেষে এসে গেছি ৷ ভারতের খেলার ভবিষ্যত নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা বলি ৷ আমার তিনটি স্বপ্ন রয়েছে ৷ আমার প্রথম স্বপ্ন , আমি দেখতে চাই কোনও শিশু যেন খেলার থ্রিল ও আনন্দ থেকে দূরে না থাকে ৷ শিক্ষার অধিকার যেমন আছে তার ঠিক পাশেই একইভাবে যেন গুরুত্ব দেওয়া হয় খেলার অধিকারকে ৷ আমার লক্ষ্য গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌঁছনো ৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই সব শিশুদের জন্য কাজ করছি ৷ যাতে আমাদের সব শিশুরা সেই সুযোগ পায় ৷  যে কোনও সমাজের প্রাথমিক কর্তব্য তাদের শিশুদের সুখী, খুশি ও ফিট রাখা ৷ আমি এটাকে নিজের ধর্মের মধ্যে ধরি ৷ আমাদের ৩০০ মিলিয়ন শিশুদের অধিকার রক্ষা আমার কর্তব্য ৷ এরা আমাদের দেশের ভবিষ্যত ৷ আগামিকালের সুন্দর মুখগুলি এরা ৷ আমার খেলার দুনিয়ার স্বপ্ন অবশ্য শুধু শিশুদের নিয়ে নয় এটা সব বয়সের সব মানুষের জন্য ৷ শিশু-তাদের বাবা-মা, তাদের দাু-দিদা সকলেই রয়েছেন এই স্বপ্নে ৷ আমাদের গোটা দেশকে এক হতে আহ্বান জানাচ্ছি ফিটনেস ও খেলা নিয়ে ৷

আমার দ্বিতীয় স্বপ্ন - ভারতের বিশ্বের স্পোর্টিং পাওয়ার হাউসে রূপান্তরিত হক ৷ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ১.৩ বিলিয়ন লোকের থেকে কেন কেউ পদক জিততে পারবে না তার কোনও কারণ আমি দেখি না ৷ আমার ইচ্ছা ও স্বপ্ন ভারতের বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্পোর্টিং ইভেন্ট অর্থাৎ অলিম্পিক্স , ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসুক ৷ ঠিক চারদিন আগে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ভারতে এনবিএ নিয়ে এসেছে ৷ তারা নিজেদের প্রথম খেলা খেলেছে ৷ আমি চাই আপনারা প্রত্যেকে এই বড় স্বপ্নের অংশ হন ৷

Loading...

আমার তৃতীয় স্বপ্ন খেলা নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করুক ৷ খেলার গ্লোবাল গোল হল শান্তি, সমঝোতা ও পরস্পরকে বোঝা যা অনুপ্রেরণা দেয়, ক্ষতে মলম দেয় এবং পরিবর্তিত করে ৷২০১৬ -র রিও অলিম্পিক্সে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল যখন রিফিউজিরা একসঙ্গে অলিম্পিক্সের পতাকার তলায় হেঁটেছিল ৷ কারোর অন্ধকারতম সময় খেলা আলোকিত করতে পারে, দিতে পারে সাহস ৷ তাদের রেফিউজি ক্যাম্প পরিণত হয়েছিল খেলার মাঠে ৷ মানবতার জন্য এটা একটা বিশেষ মুহূর্ত ছিল ৷ দুটি দেশের সংস্কৃতির মধ্যে খেলা সেতুর কাজ করে ৷ খেলারই এই ক্ষমতা রয়েছে যা আশার আলো ছড়ায় ৷ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ অষ্টম শতকে ফিরে গেলে দেখা যায় প্রাচীন গ্রিসে শুরু হয়েছিল অলিম্পিক গেমস ৷ প্রতিটা দেশে যুদ্ধের হাতিয়ার ফেলে দিয়েছিল আর খেলায় মেতেছিল ৷ সব যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল ৷ খেলার শক্তি বিস্ব শান্তি আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছিল ৷ আজকের সঙ্গে সেদিনের পরিস্থিতির ভীষণ মিল ৷ এটা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতবর্ষ জন্মজয়ন্তী ৷ আধুনিক পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুখ বিশ্ব শান্তিতে ৷ আমি আপনাদের সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি  স্পোর্টসম্যানশিপ দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করুন ৷ আমি মহাত্মা গান্ধীকে সম্মান জানাচ্ছি ৷ আমাদের সব যুদ্ধক্ষেত্র খেলার মাঠে পরিণত হক ৷ প্রতিটা ছোট ছেলে মেয়ে নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার সাহস যেন পায়, নিজেদের ভবিষ্যত নিজেরা লিখতে পারে ৷ আমাদের শিশুদের জন্য শান্তিপূর্ণ, সুন্দর, আনন্দের ভবিষ্যত রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার ৷

First published: 03:11:31 PM Oct 09, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर