' সুশীলকে ফাঁসি দিন ', বলছেন মৃত সাগরের মা

সুশীল ও মৃত সাগর

সুশীলকে ফাঁসিকাঠে চড়ানো হোক, পরিষ্কার দাবি সাগরের অভিভাবকদের। তাঁর বাবা ও মা বলছেন, ফাঁসিই হল এর উপযুক্ত শাস্তি।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ছিলেন গর্ব, হয়ে গেলেন লজ্জা। ছিলেন হিরো, হয়ে গেলেন ভিলেন। সুশীল কুমার যেন এখন একটা রহস্য। তাঁর নাম খুনের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে কেউ ভাবতে পেরেছিল ? এটাই কী নিয়তি ছিল ? এভাবে যেন আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়। বছর ২৩’এর কুস্তিগির সাগর রানা হত্যার পর শোকে মুহ্যমান তাঁর পরিবার। এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দু’বারের ওলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগির সুশীল কুমারের উপর যাবতীয় ক্ষোভ বর্ষিত হচ্ছে সেই পরিবারের।

    সুশীলকে ফাঁসিকাঠে চড়ানো হোক, পরিষ্কার দাবি সাগরের অভিভাবকদের। তাঁর বাবা ও মা বলছেন, ফাঁসিই হল এর উপযুক্ত শাস্তি। তা হলে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না। সুশীলের যাবতীয় আন্তর্জাতিক পদক, সাফল্য, খেতাব কেড়ে নেওয়া হোক। ওকে মেন্টর হিসেবে মানত সাগর। ৪ মে এই হত্যাকাণ্ডের পর সুশীলের কোনওভাবেই আর কারও গুরু হওয়ার অধিকার নেই। কুস্তিগির তকমা তার জীবন থেকে এক লহমায় মুছে গিয়েছে।

    পুলিসি তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাধা দিচ্ছেন সুশীল কুমার। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে সাগরের পরিবার। তাঁদের কথায়, ‘সুশীলের স্ত্রীর বাড়িতেই তালিম নিত সাগর। হঠাৎ করে কী যে হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না ! একটা সময় সাগরের সঙ্গে সুশীলের সম্পর্ক ছিল খুবই ভালে। কিন্তু বাড়ির ভাড়া বকেয়া থাকা নিয়ে সাগরের সঙ্গে ওর বচসা হল। তারপরই হত্যা। এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। তবে এটা পরিষ্কার, আমাদের ছেলেকে মারার পরিকল্পনা করেছিল সুশীলই।’

    প্রাক্তন জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাগর রানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পড়েছে দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সোমবার অপরাধ দমন শাখার কর্তাদের হাতে সুশীলের ফাইল তুলে দিয়েছে দিল্লি পুলিস। গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখছে ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনও। উল্লেখ্য, ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তির ‘এ’ গ্রেড তালিকায় রয়েছেন সুশীল কুমার। এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই চুক্তি থাকবে তো ? সাগর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না ফেডারেশন।

    সংস্থার সহকারী সচিব বিনোদ টোমার জানিয়েছেন, সুশীলের ব্যাপারে শীঘ্রই সংস্থার বৈঠক ডাকা হবে। এই ঘটনার পর সুশীলের সামাজিক জীবনে প্রভাব তো পড়বেই। হারাতে পারেন রেলের চাকরিও। কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী এই কুস্তিগির নর্দান রেলওয়ের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার পদে রয়েছেন। দিল্লি সরকারের তরফ থেকে মান উন্নয়নের জন্য ছত্রশাল স্টেডিয়ামে সুশীলকে স্পেশাল অন ডিউটি পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর যাবতীয় সরকারি পদ খোয়াতে পারেন তিনি। সুশীলের এই দুর্নাম সমগ্র ভারতীয় ক্রীড়াজগতের মাথা নীচু করে দিয়েছে।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: