• Home
  • »
  • News
  • »
  • sports
  • »
  • মায়ের করোনা, মানসিক অবসাদে বাবাকে নিয়ে আত্মঘাতী ছেলে! মর্মান্তিক ঘটনা হাওড়ায়

মায়ের করোনা, মানসিক অবসাদে বাবাকে নিয়ে আত্মঘাতী ছেলে! মর্মান্তিক ঘটনা হাওড়ায়

মৃত সুরজিৎ ঘোষ (বাঁদিকে)৷ বালির বাড়ির সামনে পুলিশকর্মীরা৷

মৃত সুরজিৎ ঘোষ (বাঁদিকে)৷ বালির বাড়ির সামনে পুলিশকর্মীরা৷

বালির ঘোষেস লেনের বাসিন্দা অলোকা কেরানি নামে এক মহিলা কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন৷ তিনি হাওড়ার টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷

  • Share this:

#হাওড়া: করোনার আতঙ্কে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে মানুষ৷ শুক্রবারই করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি নিজের সাত মাসের সন্তানকে কলকাতার রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ এবার আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এলো হাওড়ার বালি থেকে৷ মা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় মানসিক অবসাদ থেকে আত্মঘাতী হলেন বাবা- ছেলে৷

জানা গিয়েছে, বালির ঘোষেস লেনের বাসিন্দা অলোকা কেরানি নামে এক মহিলা কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন৷ তিনি হাওড়ার টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷ বাড়িতে অলোকাদেবীর স্বামী তিনকড়ি কেরানি (৬৫) ছাডাও ছিলেন তাঁদের ছেলে সুরজিৎ (৩৮), পুত্রবধূ রূপা এবং তাঁদের আড়াই বছরের শিশুপুত্র৷

অলোকাদেবী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরই সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে বাঁচাতে শিশু সন্তানকে নিয়ে কাছেই বাপের বাড়িতে চলে যান রূপাদেবী৷ সেখান থেকেই রোজ স্বামী এবং শ্বশুরের জন্য রান্না করে দিয়ে যেতেন তিনি৷

রূপাদেবী জানিয়েছেন, শুক্রবার তাঁর শ্বশুরমশাই তিনকড়িবাবুরও জ্বর আসে৷ এতেই প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন সুরজিৎ৷ মা- বাবা কাউকেই বাঁচাতে পারবেন না বলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় কান্নাকাটিও করেন তিনি৷ রূপাদেবীর অবশ্য দাবি, পরে শ্বুশুরমশাইয়ের জ্বর কমেও যায়৷ যদিও কাশি থাকায় এ দিন বাবারও করোনা পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন সুরজিৎ৷

কিন্তু এ দিন সকালে রূপাদেবী শ্বশুরবাড়িতে এসে দরজা খুলতে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভিতরে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন সুরজিৎ৷ শ্বশুরমশাই তিনকড়িবাবুও অচৈতন্য অবস্থায় খাটের উপরে পড়ে রয়েছেন৷ রূপাদেবীর চিৎকারেই ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশে৷ পুলিশ এসে তিনকড়িবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো পুলিশেরও অনুমান, পরিবারে করোনা সংক্রমণের পর মানসিক অবসাদ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাবা- ছেলে৷

Debashish Chakraborty
Published by:Debamoy Ghosh
First published: