২৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে প্রার্থনা লাল-হলুদে, থৈ থৈ মাঠে বিপাকে বাগান

২৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে প্রার্থনা লাল-হলুদে, থৈ থৈ মাঠে বিপাকে বাগান

মাদ্রিদে মন পড়ে ময়দানের। চার বছরের ফুটফুটে বাচ্চাটা তাঁর জীবনের লড়াই লড়ছে যে! ছোট্ট মাউরোর মাথায় ম্যালিগন্যান্ট টিউমার

  • Share this:

#কলকাতা ও লুধিয়ানা : মাদ্রিদে মন পড়ে ময়দানের। চার বছরের ফুটফুটে বাচ্চাটা তাঁর জীবনের লড়াই লড়ছে যে! ছোট্ট মাউরোর মাথায় ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। বাবা-মার কোল ছেড়ে জটিল অস্ত্রোপচারের টেবিলে শুয়ে আছে মাউরোর ছোট্ট শরীরটা। একরত্তির স্প্যানিশ শিশুটা মিলিয়ে দিয়েছে ময়দানের লাল-সবুজ-হলুদ-মেরুনকে।

রং-জার্সি সরিয়ে রেখে মাউরোর জন্য প্রার্থনায় এককাট্টা ময়দান। মাদ্রিদের হাসপাতালে মাউরো গোমেজের অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে ভারতীয় সময় দুপুর নাগাদ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অস্ত্রোপচার চলবে কম করে ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা। মাদ্রিদের হাসপাতালে ঠায় অপেক্ষায় ময়দানের চেনা মুখ, দাপুটে ডিফেন্ডার বোরহা গোমেজ। আর মাদ্রিদ থেকে হাজার মাইল দূরে, ফুটফুটে শিশুটার জীবন সঙ্কট মোচনে পুজো-প্রার্থনায় মজে এই শহর। থমথমে পরিবেশ লাল-হলুদ জুড়ে। গোকুলাম ম্যাচের সাংবাদিক সম্মেলন করতে এসেও আনমনা ইস্টবেঙ্গলের কোচ আলেজান্দ্রো মেনেনদেস গার্সিয়া। আত্মীয়তা, মানবিকতা যে কখনও কখনও ভেঙে দেয় পেশাদারিত্বের ঠোস প্যাকেজকেও।

আলেজান্দ্রো বলছিলেন, ‘‘যোগাযোগল রাখছি বোরহার সঙ্গে। ২৩ ঘণ্টার  জটিল অস্ত্রোপচার। প্রার্থনা করছি ওঁর জন্য, ওঁর পরিবারের জন্য।’’ সত্যিই তো! এমন পরিস্থিতিও আসে, যখন প্রার্থনার বেশি আর কী-ই বা করার থাকে! বড় অসহায় লাগছিল লাল-হলুদের হাইপ্রোফাইল-হেভিওয়েট কোচকে। কলকাতায় পা রাখার পর প্রথমবারের জন্য। হয়তো বা শেষবারের জন্যও। দলের স্ট্রাইকারদের গোল না করতে পারা চিন্তায় রেখেছে আলেজান্দ্রোকে। চিন্তায় রেখেছে কাশিম, ক্রেসপির তিনটে করে হলুদকার্ড। ম্যাচে হার থাকবে, জয় থাকবে। যুবভারতীর লনে হাঁটি হাঁটি পায়ে একরত্তি শিশুটার মন ভাল করা হাসি ? বোরহা গোমেজের কোলে চার বছরের ফুটফুট বাচ্চাটা-কে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন লাল-হলুদের পাথেয়।

এদিকে কনকনে ঠাণ্ডায় বুধবার লুধিয়ানায় পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে নামছে মোহনবাগান। মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে পঞ্জাবে। লুধিয়ানার গুরু নানক স্টেডিয়ামে জায়গায় জায়গায় জল জমে। হোটেল থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে অনুশীলন সেরেছেন বেইতিয়া, গনজালেজরা। মাঠের হাল দেখে চোখ কপালে বাগান কোচ কিবু ভিকুনার। সাংবাদিক সম্মেলনে বলেই দিলেন,  ‘‘ কাশ্মীরের ঠান্ডায় খেলে এসেছি। ফলে লুধিয়ানার ঠান্ডায় সমস্যা হবে না। কিন্তু খেলার মত পরিস্থিতি নেই গুরু নানক স্টেডিয়ামে। মাঠের অবস্থা খেলার অযোগ্য।’’ ডার্বির আগে বুধবার লুধিয়ানায় বাগানের ড্রেস রিহার্সাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষে ডিপান্ডা ডিকা, কেভিন লোবো, সঞ্জু প্রধানের মতো চেনা তারকারা। বেইতিয়া, গুরজিন্দরের তিনটে করে হলুদ কার্ড। পঞ্জাব ম্যাচে মেজাজ হারালেই কোপ পড়বে ডার্বিতে। মাথা ঠান্ডা করে তাই ঝিলমের পাড় থেকে পয়েন্ট আনাটাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ বাগানে।

First published: January 13, 2020, 10:45 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर