হোম /খবর /দক্ষিণবঙ্গ /
দর্শকাসন প্রায় শূন্য, সিটুর পাল্টা সভা করতে গিয়ে মুখ পুড়ল আইএনটিটিইউসি-র

Howrah: দর্শকাসন প্রায় শূন্য, সিটুর পাল্টা সভা করতে গিয়ে মুখ পুড়ল আইএনটিটিইউসি-র

তৃণমূলের শ্রমিক লংগঠনের সভায় অধিকাংশ চেয়ারই ছিল ফাঁকা৷

তৃণমূলের শ্রমিক লংগঠনের সভায় অধিকাংশ চেয়ারই ছিল ফাঁকা৷

বক্তব্য রাখার সময় দর্শক আসনের দিকে তাকালেনই না তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় | গঙ্গার দিকে তাকিয়েই কাটালেন সভা | 

  • Share this:

#হাওড়া: বামেদের পাল্টা সভা করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল তৃণমূল | প্রায় কর্মী বা দর্শক শূন্য মাঠেই সভা করলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় | তা নিয়ে কটাক্ষ করলেন সিপিএমের |

কয়েকদিন আগেই বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটুর তারফে বালি অ্যাথলেটিক মাঠে বিশাল জনসভা  করা হয়৷ সেখানে বক্তব্য রাখেন সিপিএম- এর রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম৷  সিপিএম নেতাদের দাবি, কমকরে ৭-১০ হাজার কর্মী সমর্থক এসেছিলেন সভায়৷ আর সেই সভার পাল্টা সভা করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন৷ শ্রমিক সংগঠনের সভা হলেও শনিবার সেই সভায় যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন দলের সাধারণ কর্মী৷ প্রশ্ন উঠছে, সরকারে থাকা দলের শ্রমিক সংগঠনের সভায় কেন এলেন না কর্মীরা?

আরও পড়ুন: 'শুনছি উনি ৫ তারিখ দিল্লি যাবেন... তার আগেই...' ডিসেম্বরের শুরুতে বিরাট পরিকল্পনা ঘোষণা শুভেন্দুর

 বালি অ্যাথলেটিক ক্লাবের মাঠে সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর দুটো থেকে৷ সেই সভা শুরু হয় প্রায় এক ঘণ্টা পরে | শুক্রবার  সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভ করে হাওড়া শহরের বিভিন্ন ব্লক থেকে কত লোক আসবেন, তাঁরা কীভাবে আসবেন, কোথায় গাড়ি রাখবেন তা জানিয়েছিলেন হাওড়া জেলা আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ মজুমদার৷

তখন মনে করা হয়েছিল বালির সভাস্থল উপচে পড়বে কর্মীদের ভিড়ে৷ জি টি রোড যানজটের আশঙ্কায় আগেভাগেই পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছিল৷ কিন্তু শনিবার দুপুরের সভা শুরুর পর থেকেই ছবিটা পাল্টে গেল৷  সাধারণ দিনের মতোই হলো যান চলাচল৷ সভায় যোগ দিতে ছোট ছোট কিছু মিছিল এলেও সেভাবে কোনও ভিড় চোখেই পড়লো না৷

আরও পড়ুন: বিজেপি-র সঙ্গে জোট, নন্দকুমার মডেল ঠেকাতে দশ নেতাকে বহিষ্কার করল সিপিএম

মঞ্চে তখন তৃণমূলের চাঁদের হাট৷ আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব, হাওড়ার  সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বালির বিধায়ক, দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক৷ অবশ্য তালিকায় নাম থাকলেও আসেননি মন্ত্রী অরূপ রায়৷ তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়৷

তারপর মাঠের কর্মীদের বা দর্শকের আসনে বসে গুটি কয়েক কর্মী সমর্থক৷ শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বাবু যখন সবার শেষে বক্তব্য রাখতে উঠলেন, তখন দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন হাতে গুনে তিনশো থেকে পাঁচশো জন৷ দলের এমন অবস্থা দেখে মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে দর্শক আসনের দিকে তাকালেনই না ঋতব্রত বাবু৷ গঙ্গার দিকে তাকিয়ে মিনিট পনোরো বক্তব্য রেখে বেরিয়ে গেলেন৷

এই ঘটনার পরই শনিবারের সভা নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয় বিরোধী শিবির থেকে৷ সিপিএম নেতা শঙ্কর মৈত্র বলেন, এই ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছে৷ আর ঋতব্রত বাবু জানেন, তাঁদের গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটতে চলছে তাই কর্মীদের দিকে না তাকিয়ে গঙ্গাকেই ভাল করে দেখলেন৷

বিজেপি-র দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল কোথায় দাঁড়িয়ে তা এই সভাই প্রমান করে দিল৷

এ দিকে এই সভায় যোগ দেওয়া নিয়ে হাওড়া স্টেশন চত্বরে পার্কিং জোনে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে আহত হন অনেকেই৷  সাংসদ  প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কেন তাঁদের সমর্থকদের বাধা দেওয়া হল, কেন তাঁদেরকে মারধর করা হল তিনি বুঝতে পারেননি৷ নাম না করেই তৃণমূলের অন্যগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন হাওড়ার সাংসদ৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

Tags: CITU, Howrah, TMC