Sadak Suraksha Abhiyan: ইচ্ছেটাই আসল কথা! দুর্ঘটনায় বাক হারানো চন্দ্রনাথই এখন দিশা দেখাচ্ছেন পথচলতিদের
- Reported by:Rahi Haldar
- Published by:Ananya Chakraborty
Last Updated:
নিয়ম করে সকাল বিকেল দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজিয়ে ট্রাফিক সামলে যাচ্ছেন চন্দ্রনাথ
হুগলি: মাত্র দেড় বছর বয়সে যখন সে আদো আদো কথা বলতে শিখেছিল, তখনই তার জীবনে ঘটেছিল এক ভয়ংকর ঘটনা। আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ উঁচু থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড চোট পেয়েছিল। শরীরের নাক ,মুখ ,কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরিবার তাকে নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গেলেও শেষ পর্যন্ত ছেলের আর মুখ দিয়ে কোন ‘কথা’ বেরোয়নি। তখন থেকেই জীবনের মত হারিয়ে ফেলেছিল কথা বলার ক্ষমতা। ইচ্ছা ছিল জীবনে পুলিশে চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। কিন্তু মনের সেই অদম্য জেদ আর কাজের প্রতি ভালবাসা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের দায়িত্বেই ট্রাফিক সামলাচ্ছেন চন্দ্রনাথ।
গুরাপের ব্যস্ততম জায়গা বেলতলা মোড়। একাধিক দূরপাল্লার বাস ছাড়াও ট্রেকার, অটো, টোটো যাতায়াত করে এই মোড় দিয়ে। সেই ব্যস্ততম মোড়ে নিয়ম করে সকাল বিকেল দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজিয়ে ট্রাফিক সামলে যাচ্ছেন চন্দ্রনাথ। হুগলির জেলার গুড়বাড়ি দুই পঞ্চায়েতের রোহিয়া গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ ঘোষ। প্রতিবন্ধী স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পড়ে ইতি টানতে হয়েছিল তাকে। তার বাবা বিশ্বনাথ ঘোষ যাত্রাদলে অভিনয় করে যা উপার্জন করত তা দিয়েই কোনক্রমে চলত তাদের সংসার। আর সম্বল বলতে তাদের দুই বিঘা জমি। কিন্তু ছেলের চিকিৎসার জন্য কখনও পিছুপা হয়নি তারা। চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর নিয়ে গিয়েও ছেলের মুখ দিয়ে আর কথা বলাতে পারেননি চন্দ্রনাথের বাবা মা। সময়ের কালে বিবাহের পর বর্তমানে দুই সন্তান, স্ত্রী ও বাবা মাকে দেখাশোনার দায়িত্ব তারেই কাঁধে। তার এক ছেলে সেও শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন।
advertisement
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
চন্দ্রনাথের পিতা হার্ট ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। শত প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে গত দুবছর ধরে গুরাপের বেলতলা মোড় এলাকায় ট্রাফিক সামলে যাচ্ছেন চন্দ্রনাথ। রোদ, জল, ঝড়, বৃষ্টি যাই আসুক না তাকে কোন দিনও কর্তব্যে পিছুপা হতে দেখেননি স্থানীয়রা। বাড়ি থেকে প্রতিদিন প্রায় দু কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে হাজির হয় গুরাপ থানার বেলতলা এলাকায়। সেখানেই সকাল সন্ধ্যা ট্রাফিক সামলান চন্দ্রনাথ।
advertisement
চোখে কালো চশমা, গায়ে ট্রাফিক পুলিশ লেখা পোশাক, মুখে বাঁশি নিয়ে ট্রাফিক সামলে চলেছে সে। আর তার এই কাজে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। এলাকার সকলের কাছে খুব প্রিয় চন্দ্রনাথ। পুলিশ প্রশাসনও তাকে বিভিন্ন রকমভাবে যথাসাধ্য সাহায্যের চেষ্টা করে থাকে। বেলতলা এলাকার ব্যবসায়ী বাপি বৃন্দ, সঞ্জিত দে বলেন, “কথা বলতে পারে না, বাঁশি বাজিয়ে ট্রাফিকের সমস্ত দায়িত্ব সামলান। চন্দ্রনাথ যতদিন আছে ততদিন কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। সকলের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে এবং প্রতিদিন সময় মত ট্রাফিক সামলাতেও চলে আসে।”
advertisement
চন্দ্রনাথের বাবা, মা জানান, “ছেলের এই কাজে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন সাহায্য করেছেন। পুলিশ সুপারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমরা চাই ছেলের একটা স্থায়ী কিছু হোক। তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার করজোড়ে নিবেদন তারা যেন ছেলের জন্য কিছু করেন।”
হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন বলেন, “চন্দ্রনাথ ঘোষ খুব ভাল কাজ করে, আমার কাছে এসেছিল। অনেকদিন ধরেই ওখানে ট্রাফিক সামলায়। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমাদের থেকে যতটা সাহায্য পাওয়ার আমরা তাকে করব। তবে আমরা যতটা পারব চেষ্টা করব তার জন্য কিছু করার।”
advertisement
রাহী হালদার
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Jan 31, 2025 3:55 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
Sadak Suraksha Abhiyan: ইচ্ছেটাই আসল কথা! দুর্ঘটনায় বাক হারানো চন্দ্রনাথই এখন দিশা দেখাচ্ছেন পথচলতিদের










