corona virus btn
corona virus btn
Loading

পুলিশি জুলুম বন্ধ না হলে পুজোর আগেই বন্ধ হতে পারে পণ্য পরিষেবা, হুশিয়ারি ট্রাক মালিকদের

পুলিশি জুলুম বন্ধ না হলে পুজোর আগেই বন্ধ হতে পারে পণ্য পরিষেবা, হুশিয়ারি ট্রাক মালিকদের

গোটা পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ গাড়ি আছে। যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছে এক কোটি লোক। তাঁদের ব্যবসায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#কলকাতা: যত ওজনের পণ্য নিয়ে আসা উচিত তা আনতে দেওয়া হচ্ছে না। উল্টে বেআইনি ভাবে ওভারলোডিং করা হচ্ছে। যারা ওভারলোডিং করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা না নিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে অন্যদের। এ ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে জুলুমবাজির অভিযোগ উঠছে ক্রমাগত। এই সমস্যার সুরাহা না হলে পণ্য পরিবহণ বন্ধের হুমকি দেওয়া হল। ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যে নিয়ম না মানলে পণ্য পরিবহণ বন্ধের হুমকি দিল ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন।ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন জেলার সদস্যরা হুমকি দিয়েছেন, তাঁদের দাবি না মানা হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা।

ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ইতিমধ্যেই একটি বৈঠক করা হয়েছে। সেই বৈঠকে রাজ্যের ২৩ টি জেলার সদস্যরা তাঁদের জেলার  সমস্যার কথা জানান। এই আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, তাঁরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর  থেকে এক বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হতে চলেছেন। ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমস্যা অ্যাক্সেল লোড। সারা ভারতবর্ষে যে অ্যাক্সেল লোড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে তা রাজ্য সরকার কোনওভাবেই মানছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁদের বক্তব্য, গোটা দেশের মতো এখানেও সেই সিদ্ধান্ত মানলে অন্যান্য রাজ্য থেকে ৪ থেকে ৫ টন পণ্য প্রতিদিন আমদানি-রফতানি করা যায়। যদিও এই রাজ্য অ্যাক্সেল লোড মানেনি। ফলে অন্যান্য রাজ্যের গাড়িগুলো ৪ টন থেকে ৫ টন পণ্য নিয়ে যেতে পারছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের লোকজন সেটা পাচ্ছে না।

এর ফলে গোটা পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ গাড়ি আছে। যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছে এক কোটি লোক। তাঁদের ব্যবসায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ট্রাক সংগঠনের নেতা সুভাষ বসু জানাচ্ছেন, এর ফলে ব্যবসা প্রায় বন্ধের মুখে। অন্যদিকে রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, ওভারলোডিং এর জন্য রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে । অথচ এমভিআই পুলিশ রাস্তায় প্রতিদিন জুলুম করছেন বলে অভিযোগ ট্রাক সংগঠনের সদস্যদের। এর মধ্যে আবার নতুন সংযোজন হয়েছে প্যাড পার্টি। এই প্যাড পার্টি জোর করে লরি দাঁড় করিয়ে পয়সা নিচ্ছে। বাধা দিলে রীতিমতো ছিনতাই করছে বলে সংগঠনের তরফ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

চালকদের কাছ থেকে সব জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ করছেন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁরা অভিযোগ করছেন, যেখানে সেখানে পুলিশ, এমভিআই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। পয়সা চাইছে।  না দিলে ড্রাইভারকে মারধর করছে। তাই সংগঠনের দাবি ওভারলোডিং বন্ধ করে আন্ডার লোডিং করতে হবে। অল ইন্ডিয়া মোটর ফাউন্ডেশনে তাঁরা এ নিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন। এ দিন তাঁরা হুশিয়ারি দিয়েছেন, কেন্দ্রের নিয়মানুযায়ী যদি অ্যাক্সেল লোডিং  চালু না হয় তবে তাঁরা ভিন রাজ্যের কোনও ট্রাক এ রাজ্যে ঢুকতে দেবেন না। অন্য রাজ্য থেকে আসা সবজি, ওষুধ, মাছ, লঙ্কা, আলু, পোশাক বা অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ি তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ট্রাক সংগঠন তাঁদের দাবি জানিয়ে হাজরা মোড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত  মিছিল করবেন বলে জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি সমস্ত জেলাতেও তাঁরা আন্দোলন করবেন। রাজ্য সরকার যদি তাঁদের দাবি না মেনে নেয়, তা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

তাঁদের দাবি, পুলিশের জুলুমবাজি বন্ধ করতে হবে। এমভিআই'এর জুলুমবাজি, তার ওপর কোন সংস্থার নামে প্যাড বানিয়ে সেখান থেকে পয়সা তোলা বন্ধ করতে হবে। না হলে পশ্চিমবঙ্গে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেবেন তাঁরা। এর আগেও একাধিকবার তাঁরা এই অভিযোগ এনেছেন। যদিও সমস্যার সুরাহা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, লকডাউনের জেরে তাঁদের হাল বেহাল। ফলে এ বার সমস্যার সুরাহা না হলে তাঁদের পণ্য পরিবহণ বন্ধ করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।

Published by: Simli Raha
First published: September 11, 2020, 9:02 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर