'আসল পরিবর্তনের' বাংলায় প্রার্থী-ক্ষোভে জেরবার বিজেপি, কড়া নির্দেশ শাহের!

'আসল পরিবর্তনের' বাংলায় প্রার্থী-ক্ষোভে জেরবার বিজেপি, কড়া নির্দেশ শাহের!

কড়া নির্দেশ শাহের

ক্ষোভ যে দলের স্বপ্নভঙ্গ করে দিতে পারে, তা আন্দাজ করতে দেরি হয়নি অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদিদের। তাই রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে সভা করতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দলের নেতাদের কড়া নির্দেশ দিলেন, অবিলম্বে থামাতে হবে কোন্দল।

  • Share this:

    #কলকাতা: এবার তাঁদের দখলেই নবান্ন। 'আসল পরিবর্তন'-এর স্লোগান তুলে বাংলায় ২০০-র বেশি আসনে জেতার দাবি করছে বিজেপি। কিন্তু প্রথম থেকে শেষ দফা, ধাপেধাপে যতই প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি, ততই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ফেটে পড়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। এমনিতেই তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যাওয়া নেতা-মন্ত্রীদের প্রায় প্রত্যেককে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ ছিলই। দিনদিন তা আরও বাড়ছে। আর সেই ক্ষোভ যে দলের স্বপ্নভঙ্গ করে দিতে পারে, তা আন্দাজ করতে দেরি হয়নি অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদিদের। তাই রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে সভা করতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দলের নেতাদের কড়া নির্দেশ দিলেন, অবিলম্বে থামাতে হবে কোন্দল। ভোটে জিততে কোনও ক্ষোভ আপাতত দেখানো যাবে না বলেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    রবিবার এগরায় সভা করেন অমিত। সেখানে উপস্থিত থেকে বিজেপিতে যোগ দেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। এরপর মেচেদায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বৈঠক করেন অমিত শাহ। তমলুক সাংগঠনিক জেলার কর্মীদেরও তিনি ভোট প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সেই নির্দেশ দেন। বিজেপি সূত্রে খবর, চড়া সুরেই তৃণমূলের দুর্নীতি শেষ না করা পর্যন্ত বিজেপি কর্মীদের স্বস্তি নেওয়া যাবে না বলেই নির্দেশ দেন তিনি।

    শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দলীয় প্রচারের অভিমুখ, রণকৌশলও বাতলে দিয়েছেন তিনি। ভোটের আগেই প্রতিটি বিধানসভার বেশ কিছু কর্মীকে পোলিং এজেন্টের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি। তবে, বৈঠকে তাঁর লক্ষ্যই ছিল, দলীয় কোন্দল মেটানো। সেই সূত্রেই তিনি কড়া সুরেই জানিয়ে দেন, ভোটের মুখে এই ধরনের বিক্ষোভ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা বিক্ষোভ দেখাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দল পিছপা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শাহ। রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে শাহের এই বৈঠক ও কড়া নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পূর্ব মেদিনীপুর থেকেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, শিশির অধিকারীরা। আবার ওই জেলারই নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন খোদ শুভেন্দুই। ফলে প্রেস্টিজ ফাইটে কোনওভাবেই হারতে চাইছে না বিজেপির দিল্লি নেতৃত্ব। ফলে শুভেন্দুর এলাকায় দাঁড়িয়ে শাহের বার্তা বিশেষ লক্ষ্যনীয় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    তবে শুধুই বিক্ষোভ নয়, প্রার্থীতালিকা ঘোষণা হতেই বিজেপি ছাড়ার হিড়িকও বেড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দলের সব পদ ছেড়ে দিয়েছেন প্রয়াত বিজেপি নেতা তপন শিকদারের ভাইপো সৌরভ শিকদার। এর আগে প্রথম চার দফা ভোটের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পর বিজেপির হেস্টিংসের পার্টি অফিসেও বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কর্মীরা। বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল মুকুল রায়, সব্যসাচী দত্তদের। ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখনও তা বজায় রয়েছে নানা জায়গায়। এমন সময়ে অমিত শাহের বার্তা দলে কতটা কাজ দেয়, সেটাই দেখার।

    Published by:Suman Biswas
    First published: