corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাড়িতে শায়িত বাবার মরদেহ, কষ্ট বুকে চেপে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন ছাত্রী !

বাড়িতে শায়িত বাবার মরদেহ, কষ্ট বুকে চেপে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন ছাত্রী !

পরীক্ষা দিয়ে ফিরে বিকেলে বাবাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাই মেয়ে রিঙ্কি।

  • Share this:

#মালদহ: পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাবার । শোক নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে মালদহের গাজোল এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রিংকি রায়। শুধু তাই নয়, মাধ্যমিকের ভৌত বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে ফিরে বিকেলে বাবাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাই মেয়ে রিঙ্কি। কিন্তু, কাল বুধবার ফের পরীক্ষা দেওয়া থাকায় কিভাবে প্রস্তুতি নিবে রিঙ্কি তা নিয়েই উদ্বেগে প্রতিবেশীরা ।

জানা গিয়েছে , অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেধাবী মেয়ে রিঙ্কি। গাজলের আহড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে সে । তার পরীক্ষা কেন্দ্র গাজলের শিউচাঁদ পরমেশ্বরী বিদ্যামন্দির । এদিন সকাল পর্যন্ত আনন্দেই ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রিঙ্কি ।কারণ, আগামীকালই পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু , সব আনন্দই মুহূর্তে মাটিতে মিশে গেল বাবার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু তে। জানা গিয়েছে, রিঙ্কির বাবা অখিল রায় , ৪৬ পেশায় কৃষিজীবী। এদিন সকালে নিজের জমির ঢেঁড়স নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন তিনি। আহরা মোড়ের কাছে গাড়ি ধরবেন বলে মাথায় ঝুড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময় একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মেরে পালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। যখন বাড়িতে মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছায় তখন স্কুল ড্রেস পড়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে বেরোচ্ছে রিঙ্কি।

বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।সবাই ভাবে রিঙ্কির পক্ষে আর পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শেষপর্যন্ত মনকে শক্ত করে নিথর বাবাকে দেখেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যায় রিঙ্কি । শুধু তাই নয়, পরীক্ষা শেষ এরপর তো তোর দাদার সঙ্গে মোটরবাইকে বাড়িতে ফিরে এসে বাবাকে শ্রদ্ধা জানায় সাহসী মেয়ে। এই শোকাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে কেমন পরীক্ষা হল রিঙ্কির? সে জানিয়েছে, মাঝারি মানের পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষা বাবাকে উত্সর্গ করতে চায় সে। তাঁর এক আত্মীয় নরেশ সরকার জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। রিঙ্কিও মানসিকভাবে দুর্বল হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে মনকে শক্ত করে পরীক্ষার জন্য তৈরি হয়ে যায় সে । প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে রিঙ্কি ও তার পরিবারের পাশে থাকতে চান তাঁরা। রিঙ্কি ছাড়াও পরিবারে আরও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সে প্রথম শ্রেণীর পড়ুয়া । পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় গোটা পরিবারের তৈরি হয়েছে চরম ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা।

সেবক দেব শর্মা

First published: February 25, 2020, 8:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर