মিজোরামের মহিলার মহান উদ্যোগ, ১০ হাজারের বেশি এইডস রোগীর হল কর্মসংস্থান!

মিজোরামের মহিলার মহান উদ্যোগ, ১০ হাজারের বেশি এইডস রোগীর হল কর্মসংস্থান!

মিজোরামি মহিলার মহান উদ্যোগ, ১০ হাজারের বেশি এইডস রোগীর হল কর্মসংস্থান!

২০ বছর বয়সে তিনি নিজেও ড্রাগে আসক্ত হন । এরপর ধরা পড়ে তাঁর শরীরেও বাসা বেঁধেছে HIV ভাইরাস । সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর লড়াইয়ের গল্প ।

  • Share this:

#মিজোরাম: মহান মানুষ এঁদেরই বলে। যাঁদের সামনে সমাজের কুসংস্কারগুলো গৌণ হয়ে পড়ে। মিজোরামের বাসিন্দা ভ্যানলালরুয়াতি কলনি (Vanlalruati Colney)। এই মহিলার কৃতিত্ব সমাজকে পথ দেখিয়েছে। ইনি প্রায় ১০,০০০ HIV আক্রান্তদের কর্মসংস্থান করে দিয়ে তাঁদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছেন। HIV বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস AIDS রোগের সংক্রমণের জন্য দায়ী। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের সামাজিক নানা কলঙ্কের শিকার হতে হয় আকছার। এক কোণে ঠেলে ফেলা হয় তাঁদের প্রতি নিয়ত।

কলনির এই সংগ্রাম প্রথম দিকে বেশ কঠিন ছিল। সামাজিক কুসংস্কারের আড়ালে পড়ে থাকা মানুষগুলো নিজে থেকে সামনে আসতে চায়নি প্রথমে। কিন্তু হার মানেননি ভ্যানলালরুয়াতি। তিনি মনোস্থির করেন এই রোগে আক্রান্তদের সাহায্য করবেন। এই যাত্রায় তিনি নিজেও যে সুস্থ ছিলেন তা কিন্তু নয়। অল্প বয়সে কলনি ড্রাগে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন, এর পর মাত্র ২০ বছর বয়সে ধরা পড়ে তিনি নিজেও HIV-তে আক্রান্ত। পরে তাঁর শরীরে এই রোগটি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। গোটা শরীর বড় বড় ফোস্কায় ভরে যায়। তাঁর চুল পড়তে শুরু করে এবং সংক্রমণের কারণে তরল স্রাব এত বেশি হতে থাকে যার দাগ একসময়ে বেডশিটে দেখতে পাওয়া যেত।

বেটার ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেন, হাসপাতালের কর্মীরা তাঁর বেডশিট স্পর্শ করতে চাইত না। সেই সময় মিজোরামের HIV স্বাস্থ্যসেবা একদম ভাল ছিল না। একদিকে কলনির পরিবার আশা হারাতে শুরু করেছিল। তবে কলনি নিজে দৃঢ় ছিলেন। এর পর তিনি একটি স্থানীয় গির্জার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন HIV রোগীদের সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে সামনে সারিতে নিয়ে এসে তাঁদের কষ্টের বোঝা হালকা করবেন। ২০০৭ সালে তিনি HIV-তে আক্রান্ত মহিলাদের নিয়ে একটি support and advocacy group তৈরি করেন। যার নাম রাখা হয় Positive Women’s Network of Mizoram (PWNM)। এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল HIV-পজিটিভ মহিলাদের সমসাময়িক অন্যদের সঙ্গে বার্তালাপ বাড়িয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওয়াত নিয়ে আসা। এই সংস্থার সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত। কোভিড ১৯ অতিমারীতেও বড় ভুমিকা পালন করছে কলনির সংস্থা। বর্তমানে NGO Goonj ও UNAIDS নামে দু'টি বড় বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন কলনি।

কলনির এই দৃঢ় মনোভাব বিফলে যায়নি। ২০১৯ সালে দিল্লির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে the Woman Exemplar Award-এ ভূষিত হয়েছেন। কলনির বয়স এখন ৩৭। তাঁর আশা এভাবেই তিনি আরও ভালো কাজ করে যেতে পারবেন।

Published by:Simli Raha
First published: