• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • Sudip Roy Barman attacks Biplab Deb: বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সুদীপ, পুরভোটের ঠিক আগে ত্রিপুরায় ব্যাকফুটে বিজেপি

Sudip Roy Barman attacks Biplab Deb: বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সুদীপ, পুরভোটের ঠিক আগে ত্রিপুরায় ব্যাকফুটে বিজেপি

বিপ্লবকে আক্রমণ সুদীপের৷

বিপ্লবকে আক্রমণ সুদীপের৷

গত কয়েক দিন ধরে তৃণমূল (Tripura Civic Polls) যে যে অভিযোগ করেছে, এ দিন সুদীপ রায় বর্মণের গলাতেও কার্যত তারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে৷

  • Share this:

    #আগরতলা: পুরভোটের আগেই ত্রিপুরায় বিজেপি-কে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেললেন দলের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ৷ বিপ্লব দেব সরকার এবং দলের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে সুদীপ রায় বর্মণ (Sudip Roy Barman attacks Biplab Deb)৷

    গত কয়েক দিন ধরে তৃণমূল (Tripura Civic Polls) যে যে অভিযোগ করেছে, এ দিন সুদীপ রায় বর্মণের গলাতেও কার্যত তারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে৷ বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) নাম না করেই তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুদীপ রায় বর্মণ৷ বিজেপি-র বিদ্রোহী বিধায়কের দাবি, ভোটের আগে হামলা, হুজ্জতি করে আসলে দলেরই বদনাম হচ্ছে৷

    তবে এ দিন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সুদীপ রায় বর্মণ বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূল নয়৷ আসলে ত্রিপুরায় বিজেপি-র প্রকৃত প্রতিপক্ষ বামফ্রন্টই৷ সুদীপ রায় বর্মণের মতে, 'আমরা নিজেদের প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই চিনতে পারিনি৷'

    আরও পড়ুন: দুপুরে রাজধানীতে তৃণমূল ঝড়, নেত্রীর ব্রিগেডে আসছেন অশোক তনওয়ার

    এ দিন আগরতলায় রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে বিপ্লব দেব সরকারের সমালোচনায় সরব হন সুদীপ রায় বর্মণ৷ তিনি বলেন, 'ইদানিংকালে যে ঘটনাগুলি রাজ্যবাসী চাক্ষুস করছেন,হামলা, হুজ্জতি, রাতের অন্ধকারে বাড়ি ঘর ভাঙা, প্রার্থীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো- এই ঘটনাগুলির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই৷ ভারতীয় জনতা পার্টির মূল মন্ত্র সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস৷ ভারতীয় জনতা পার্টি যে চিন্তাধারায় আবদ্ধ, তাতে দেশের স্বার্থ সবার আগে, তার পর দল, ব্যক্তি৷ এই দুই মূল মন্ত্রের কোনওটাই রাজ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে না৷ উন্নয়ন, বিশ্বাসের উপরে ভোট হলে এসব হামলা, হুজ্জতির প্রয়োজন ছিল না৷'

    তাঁর আরও দাবি, 'যে চিন্তা ধারায় ভারতীয় জনতা পার্টি আবদ্ধ, তাতে দেশের মানুষ সবার আগে৷ কিন্তু এখানে উল্টো ছবি দেখছি৷ আমাদের রাজ্যের সংস্কৃতি হল উৎসবের মেজাজে ভোট৷ এখন গোটা দেশ সেই ত্রিপুরাকে অন্য ভাবে চিনছে৷ এটাই আমার আক্ষেপ৷'

    আরও পড়ুন: হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, এবার ফিরহাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ত্রিপুরায়

    যদিও এই পরিস্থিতির জন্য দলীয় নেতৃত্বকে সরাসরি দায়ী করেননি সুদীপ রায় বর্মণ৷ সুদীপের দাবি, 'বিজেপি নেতৃত্ব তো কাউকে হামলা করা, গুলি চালানো, রক্তপাত ঘটানোর নির্দেশ দেয়নি৷ আমাদের মতো অগণিত বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের একটাই চিন্তা, এসব করে বিজেপি, প্রধানমন্ত্রীর দুর্নাম হচ্ছে৷ একটা স্থানীয় স্তরের নির্বাচনে যদি উন্নয়নকে সামনে রেখে ভোট হত, খুব খুশি হতাম৷ বরং প্রচারে সব নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে৷ ব্যক্তি আক্রমণ, ব্যক্তি কুৎসা চলছে৷ প্যারাসুট থেকে এসে নেমে পড়া মানসিক বিকৃতির শিকার একজন নেতার নির্দেশে এসব হচ্ছে৷ যারা সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে তারা বিজেপি-র কর্মী নন৷ এদের একটা বড় অংশ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলে এসেছে৷ আসলে এরা কট্টর বামপন্থী ঘরানার৷'

    তৃণমূলের তরফে বার বারই ত্রিপুরা পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে৷ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মেনে নিয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণও৷ যদিও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার নেপথ্যে অন্য অঙ্ক দেখছেন বিজেপি-র বিদ্রোহী বিধায়ক৷ তাঁর দাবি, 'আমরা নিজেদের মূল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিনতে পারিনি৷ পুলিশ আজকে ঠুঁটো জগন্নাথ৷ মানুষের রাগ, অভিমান যাতে আরও বেশি করে বিজেপি, রাজ্য সরকারের উপরে বেশি করে পড়ে, সেটাই পুলিশ সুনিশ্চিত করছে৷ যে সব পুলিশ অফিসাররা বাম সরকারের আস্থাভাজন ছিল, তাঁরাই এখন শীর্ষ স্তরে রয়েছে৷ এই বিষয়টি শিশুসুলভ, প্যারাসুট থেকে নেমে পড়া নেতারা বুঝতেই পারছেন না৷ যখন বুঝবেন তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে৷'

    সুদীপ রায় বর্মণের সঙ্গে বিপ্লব দেবের সংঘাত অনেক দিনের৷ যে কারণে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিতে হয় সুদীপ রায় বর্মণকে৷ দলের শীর্ষ নেতৃত্বও সুদীপের বদলে বিপ্লব দেবের উপরেই আস্থা রাখে৷ যা সুদীপ রায় বর্মণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে৷ যদিও সংঘাত চূড়ান্তে পৌঁছলেও দল ছাড়েননি সুদীপ৷ এর আগেও বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন তিনি৷ বিজেপি-ও সুদীপ রায় বর্মণের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷

    স্বভাবতই বিজেপি বিধায়কের এ দিনের সাংবাদিক বৈঠককে হাতিয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, 'এখন বিজেপি-র ভিতর থেকেই এই আওয়াজ উঠছে যে ত্রিপুরা জুড়ে সন্ত্রাস, হামলা চলছে৷ ত্রিপুরার একজন নাগরিক হিসেবে যে ভাবে তিনি গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার মুখোশ খুলে দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি, ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ দলীয় নেতৃত্বকে বলেও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি-র বিবেকের ভূমিকায় অভিনয় করতে হচ্ছে৷'

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: